বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) দেশের সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, চোরাচালান প্রতিরোধ এবং মাদকদ্রব্য পাচার নিয়ন্ত্রণে নিয়মিতভাবে অভিযান পরিচালনা করে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় হবিগঞ্জ ব্যাটালিয়ন (৫৫ বিজিবি) কর্তৃক আজ ১৫ আগস্ট বিশেষ অভিযানে ভারতীয় চোরাচালানকৃত ১৩৩ কেজি গাঁজা, ১৮ বোতল ভারতীয় মদ জব্দ করা হয়েছে। জব্দকৃত মাদকদ্রব্যের সর্বমোট সিজার মূল্য আনুমানিক ৫ লক্ষ টাকা।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ৫৫ বিজিবি হবিগঞ্জ জেলার চুনারুঘাট উপজেলার সাতছড়ি বিওপির টহলদল আজ ১৫ আগস্ট ২০২৬ তারিখ দুপুর ২টার সময়ে সীমান্ত হতে আনুমানিক ০১ কিঃমিঃ বাংলাদেশ অভ্যন্তরে সাতছড়ি তেলিয়াপাড়া সংরক্ষিত বনাঞ্চল এবং দুর্গম পাহাড়ি উঁচু-নিচু টিলা ভূমি এলাকায় বিজিবি টহল পরিচালনার সময় বস্তার মধ্যে লুকানো অবস্থায় মালিকবিহীন ১৩৩ কেজি ভারতীয় গাঁজাসহ ০১ বোতল মদ উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, মাদক ও চোরাকারবারীরা ভারত থেকে পাচারের উদ্দেশ্যে এসব মাদক দ্রব্য এনে সুবিধাজনক সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে পাচারের লক্ষ্যে দুর্গম জঙ্গলের মধ্যে লুকিয়ে রেখেছিল। বিজিবির নিয়মিত টহল তৎপরতার অংশ হিসেবে পরিচালিত এ অভিযানে বিপুল পরিমান ভারতীয় গাঁজা উদ্ধার করা সম্ভব হয়।
অপরদিকে, ৫৫ বিজিবির অধীন তেলিয়াপাড়া বিওপির একটি টহল দল ১৫ আগস্ট ২০২৬ তারিখ বিকাল আনুমানিক ৬টার সময় হবিগঞ্জ জেলার মাধবপুর উপজেলাধীন তেলিয়াপাড়া চা-বাগান সীমান্ত এলাকায় টহল পরিচালনা করছিল। এ সময় চোরাকারবারীদের লুকিয়ে রাখা সন্দেহজনক স্থানে বিজিবি সদস্যরা তল্লাশি করেন। তল্লাশিকালে মালিকবিহীন অবস্থায় ১৮ বোতল ভারতীয় মদ জব্দ করা হয়।
উল্লেখ্য, চলতি মাসে ৫৫ বিজিবি’র বিশেষ অভিযানে সাতছড়ি সংরক্ষিত বনাঞ্চলের দুর্গম সীমান্ত এলাকা থেকে ১৫ লক্ষ টাকা মূল্যের সর্বমোট ১৮৬ কেজি ভারতীয় গাঁজা এবং ১৯ বোতল ভারতীয় মদ, ৫০ বোতল ইস্কফ সিরাপ, এবং ২৫৮৫ পিস ইয়াবা আটক করতে সক্ষম হয়।
জব্দকৃত মাদকদ্রব্য বিধি মোতাবেক সংশ্লিষ্ট মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরে কর্তৃপক্ষের নিকট হস্তান্তরের কার্যক্রাম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
হবিগঞ্জ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোঃ তানজিলুর রহমান বলেন, “যেকোনো ধরনের মাদক ও চোরাচালানের বিরুদ্ধে হবিগঞ্জ বিজিবি সবসময় দৃঢ় ও কঠোর অবস্থানে রয়েছে। সীমান্ত সুরক্ষার পাশাপাশি দেশের যুবসমাজকে মাদকের ভয়ালগ্রাস থেকে রক্ষা করতে বিজিবি নিয়মিতভাবে মাদকবিরোধী অভিযান, জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম ও বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছে।
চোরাচালান ও মাদকবিরোধী প্রতিটি অভিযান অপরাধ দমনের পাশাপাশি সীমান্তবর্তী জনগণের মধ্যে নিরাপত্তাবোধ ও স্বস্তি ফিরিয়ে আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। সীমান্ত অপরাধ শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনার লক্ষ্যে হবিগঞ্জ বিজিবির চোরাচালান ও মাদকবিরোধী অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।”
0 মন্তব্য