শিগগিরই হরমুজ প্রণালিকে যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ড হিসেবে ঘোষণা করার কথা বলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার (১৪ আগস্ট) নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যে এক রাজনৈতিক সমাবেশে তিনি এ মন্তব্য করেন।
ট্রাম্প বলেন, “আমরা ইরানকে পরাজিত করার কাজ শেষ করার পর—যারা খুব খারাপভাবে পরাজিত হচ্ছে—খুব শিগগিরই আমি হরমুজ প্রণালিকে যুক্তরাষ্ট্রের একটি ভূখণ্ড হিসেবে ঘোষণা করব।”
এরপর নিজের বক্তব্যের ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, “এটা সত্যি।”
ট্রাম্পের এ বক্তব্য এমন সময়ে এলো, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান সংঘাতের কারণে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাপকভাবে কমে গেছে। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইরান গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথে নৌ চলাচল সীমিত করেছে। একই সময়ে ইরান-সংশ্লিষ্ট জাহাজ ও বন্দরকে ঘিরে মার্কিন নৌ অবরোধও অব্যাহত রয়েছে।
হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ। বৈশ্বিক তেল সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ এই জলপথের ওপর নির্ভরশীল। ফলে সেখানে দীর্ঘমেয়াদি অচলাবস্থা তৈরি হলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা দিতে পারে।
রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার হরমুজ প্রণালি দিয়ে পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল প্রায় থমকে যায়। এর আগের দিন মাত্র নয়টি পণ্যবাহী জাহাজ প্রণালিটি অতিক্রম করেছিল, যেখানে আগস্টে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১২টি জাহাজ চলাচল করেছে। এর মধ্যে দুটি জাহাজে হামলার ঘটনাও পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে।
এর আগেও হরমুজ প্রণালির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার দাবি করেছিলেন ট্রাম্প। গত ১২ আগস্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, মার্কিন নৌ অবরোধের কারণে প্রণালিটি কার্যত যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং ওয়াশিংটন চাইলে এই নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখবে।
মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথও জানিয়েছেন, প্রয়োজন হলে ইরানের বন্দরগুলোর ওপর মার্কিন নৌ অবরোধ অনির্দিষ্টকাল চালিয়ে যাওয়া সম্ভব। জাহাজ পরিবর্তনের মাধ্যমে দীর্ঘ সময় এই অবরোধ বজায় রাখা হবে বলেও জানান তিনি।
তবে হরমুজ প্রণালিকে মার্কিন ভূখণ্ড ঘোষণা করার ট্রাম্পের বক্তব্য কীভাবে বাস্তবায়ন করা হবে, কিংবা এটি আদৌ আনুষ্ঠানিক মার্কিন নীতিতে পরিণত হবে কি না—সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো স্পষ্টতা পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে এখনো ইরানের পক্ষ থেকেও কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
0 মন্তব্য