আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে দেশজুড়ে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে ঈদযাত্রা।
শনিবার ভোরে রাজধানী ঢাকা থেকে বিশেষ ব্যবস্থাপনায় রাজশাহীগামী ধূমকেতু এক্সপ্রেস ছেড়ে যাওয়ার মধ্য দিয়ে রেলপথে ঈদযাত্রার সূচনা হয়। তবে সরকারি অফিস খোলা থাকায় প্রথম দিনে ঘরমুখো মানুষের চাপ তুলনামূলক কম ছিল।
ঈদযাত্রা নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন রাখতে ২৫ থেকে ৩১ মে পর্যন্ত মহাসড়কে ট্রাক, কাভার্ডভ্যান ও ট্যাঙ্কলরি চলাচলে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ।
একই সময়ে সরকার ঈদুল আজহা উপলক্ষে সরকারি ছুটিও ঘোষণা করেছে।
রাজধানীর কমলাপুর রেলস্টেশন ঘিরে নেওয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। টিকিট ছাড়া কাউকে স্টেশনে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না। স্টেশনের প্রবেশমুখে বিভিন্ন নিরাপত্তা বাহিনীর বুথ স্থাপন করা হয়েছে এবং বাস দিয়ে ব্যারিকেড তৈরি করে নিরাপত্তাবেষ্টনী গড়ে তোলা হয়েছে। যাত্রীদের একাধিক ধাপে টিকিট যাচাইয়ের পর স্টেশনে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে।
রেলওয়ে সূত্র জানায়, শনিবার কমলাপুর স্টেশন থেকে ৫৫টি ট্রেন ছেড়ে গেছে। এর মধ্যে ৪৩টি আন্তঃনগর ট্রেন এবং বাকিগুলো মেইল ও কমিউটার ট্রেন। অতিরিক্ত যাত্রীর কারণে অনেককে দাঁড়িয়ে ভ্রমণ করতে দেখা গেছে।
মো. কবীর উদ্দীন বলেন, ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে এবং ট্রেনের ছাদে কাউকে উঠতে দেওয়া হবে না। যদিও সকালে কয়েকটি ট্রেন অপারেশনাল কারণে কিছুটা দেরিতে ছেড়েছে, অধিকাংশ ট্রেন নির্ধারিত সময়েই যাত্রা শুরু করেছে।
রেল সচিব ফাহিমুল ইসলাম জানান, ঈদের সময় ৮৫টি মিটারগেজ লোকোমোটিভ সচল রাখার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। বর্তমানে ৭৮ থেকে ৭৯টি প্রস্তুত রয়েছে এবং খুব দ্রুতই সংখ্যা ৮০ ছাড়াবে বলে আশা করা হচ্ছে। তিনি আরও জানান, দেওয়ানগঞ্জ কমিউটার ট্রেনের ইঞ্জিনে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে কয়েকটি ট্রেন ১৫ মিনিট থেকে আধা ঘণ্টা পর্যন্ত বিলম্বিত হয়েছিল।
ঈদযাত্রায় ট্রেনের ছাদে যাত্রী ওঠা ঠেকাতে বাংলাদেশ রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী, জিআরপি ও ভ্রাম্যমাণ আদালত মোতায়েন করেছে। বিশেষ করে উত্তরাঞ্চলগামী ট্রেনগুলোতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
এদিকে নদীপথেও ঈদযাত্রার প্রস্তুতি জোরদার করা হয়েছে। সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল এলাকায় এখনো চাপ কম থাকলেও আজ শেষ কর্মদিবসের পর যাত্রী সংখ্যা বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এবার ঈদে নদীপথে প্রায় ১০ থেকে ১২ লাখ যাত্রী চলাচল করতে পারেন। এ জন্য ১৭৫টি লঞ্চ প্রস্তুত রাখা হয়েছে এবং নিয়মিত সার্ভিসের পাশাপাশি অতিরিক্ত লঞ্চও চালানো হবে।
সড়কপথেও গাবতলী, সায়েদাবাদ ও মহাখালী বাস টার্মিনাল থেকে বিভিন্ন জেলায় যাত্রীদের যাত্রা শুরু হয়েছে। তবে দীর্ঘ ছুটির কারণে প্রথম দিনে চাপ তুলনামূলক কম ছিল। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, আজ থেকে সড়কপথে যাত্রীর সংখ্যা আরও বাড়বে।
ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের আবদুল্লাহপুর ইন্টারসেকশনে নতুন নির্মিত ১৬০ মিটার রিজিড পেভমেন্ট অংশ যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে। এতে ঈদের সময় যানজট ও ভোগান্তি অনেকটাই কমবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
0 মন্তব্য