হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নতুন রুট নির্ধারণে ওমানের সঙ্গে আলোচনা চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে বলে জানিয়েছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, নতুন নৌপথের ভৌগোলিক অবস্থান (কো-অর্ডিনেট) নিয়ে দুই দেশ ইতোমধ্যে একমত হয়েছে।
বুধবার (৬ আগস্ট) সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘায়ি জানান, গত দুই মাস ধরে হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য নিরাপদ রুট নির্ধারণে আলোচনা চলছে।
তিনি বলেন, “দুই পক্ষ প্রস্তাবিত রুটের ভৌগোলিক অবস্থান নিয়ে একমত হয়েছে। তৃতীয় কোনো পক্ষ বাধা সৃষ্টি না করলে দুই দেশের যৌথ বিবৃতি বর্তমানে পর্যালোচনা ও চূড়ান্ত খসড়া তৈরির শেষ পর্যায়ে রয়েছে।”
ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী (আইনি ও আন্তর্জাতিক বিষয়ক) কাজেম গারিবাবাদি রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আইআরএনএকে জানান, সামুদ্রিক প্রবেশ ও প্রস্থান পথসহ প্রায় সব বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা হয়েছে।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, নতুন ব্যবস্থায় জাহাজ চলাচলের রুটের বড় অংশ ইরানের আঞ্চলিক জলসীমার মধ্য দিয়ে যাবে, আর কিছু অংশ ওমানের জলসীমা অতিক্রম করবে।
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে ব্যবহৃত অস্থায়ী নৌপথ বন্ধ করে নতুন রুট চালু করা হবে। এটি প্রাথমিকভাবে দুই থেকে চার মাস, প্রয়োজনে আরও দীর্ঘ সময়ের জন্য কার্যকর থাকতে পারে।
গত ১৭ জুন ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) বাতিল হওয়ার পর এবং পুনরায় সংঘর্ষ শুরু হলে ইরান কার্যত হরমুজ প্রণালিতে কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে। এর ফলে বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) রপ্তানির প্রায় ২০ শতাংশ বিঘ্নিত হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম বাড়িয়ে দিয়েছে।
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পসহ যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, তেহরান হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দিতে একটি চুক্তিতে আগ্রহী। তবে যুক্তরাষ্ট্র স্পষ্ট করে জানিয়েছে, এমন কোনো সমঝোতা তারা মেনে নেবে না যাতে প্রণালিটির নিয়ন্ত্রণ ইরানের হাতে থাকে।
অন্যদিকে তেহরানভিত্তিক সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ-এর গবেষক আলী আকবর দারেইনি বলেন, যুদ্ধে ইরানের সবচেয়ে বড় সামরিক অর্জন হলো হরমুজ প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা। তার মতে, চলমান আলোচনার উদ্দেশ্য সেই নিয়ন্ত্রণকে আরও স্থায়ী ও স্বীকৃত করা।
তিনি বলেন, “আলোচনার উদ্দেশ্য অর্জনগুলো ছেড়ে দেওয়া নয়, বরং সেগুলোকে স্থিতিশীল করা।”
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘায়ি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ‘জায়নবাদী শাসনব্যবস্থা’র সামরিক আগ্রাসনের কারণেই হরমুজ প্রণালিতে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, “শুধু ইরান ও ওমানের মধ্যে সমঝোতা হলেই হরমুজ প্রণালি নিরাপদ হয়ে যাবে—এমনটি বলা যাবে না। কারণ যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ এবং ইরানের বিরুদ্ধে অন্যান্য সামরিক ও হুমকিমূলক কর্মকাণ্ড এখনো অব্যাহত রয়েছে।”
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, ইরানের নৌবাহিনীর বিরুদ্ধে চলমান অবরোধ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে তারা মোট ৪৮টি বাণিজ্যিক জাহাজের গতিপথ পরিবর্তন করেছে, দুটি জাহাজ অচল করেছে এবং আরও দুটি জাহাজে অভিযান চালিয়ে নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে।
0 মন্তব্য