শ্রমিক আন্দোলনে আজও উত্তপ্ত গাজীপুরের দুটি মহাসড়ক। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ইতোমধ্যে দেড় শতাধিক কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। এসব কারখানার শ্রমিকেরা মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করছেন।
শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করতে গিয়ে পুলিশ ও বিজিবির সঙ্গে একাধিকবার সংঘর্ষ এবং ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় বিক্ষুব্ধ শ্রমিকেরা পুলিশের তিনটি গাড়িতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেন। সংঘর্ষে বিজিবি সদস্যসহ কয়েকজন আহত হয়েছেন। হামলার শিকার হয়েছেন সাংবাদিকরাও।
সোমবার (২ নভেম্বর) সকাল থেকে গাজীপুরের ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের সফিপুর পল্লী বিদ্যুৎ ও চন্দ্রা এলাকায় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন শ্রমিকেরা। বেলা ১১টার দিকে আন্দোলনকারীদের সরিয়ে দিতে পুলিশ ও বিজিবি সদস্যরা ধাওয়া দিলে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় শ্রমিকদের ছোড়া ইটের আঘাতে এক বিজিবি সদস্য আহত হন।
অন্যদিকে, দুপুর ১২টার দিকে গাজীপুর মহানগরীর নাওজোর এলাকায় বিক্ষুব্ধ শ্রমিকেরা পুলিশের একাধিক গাড়িতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেন।
এ সময় সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে হামলার শিকার হন সময় টিভির প্রতিবেদক ও ক্যামেরাপারসন। তাঁদের ক্যামেরাও ভাঙচুর করা হয়। এ ছাড়া এসএ টিভির এক ক্যামেরাপারসন পায়ে আঘাত পেয়েছেন।
গাজীপুর শিল্প পুলিশের পুলিশ সুপার আমজাদ হোসেন বলেন, আজও শ্রমিকেরা বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ করছেন। শ্রমিক আন্দোলনের কারণে দেড় শতাধিক কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিজিবি, জেলা ও মহানগর পুলিশ এবং শিল্প পুলিশ একসঙ্গে কাজ করছে।
এদিকে, শ্রমিক বিক্ষোভ ও সংঘর্ষের ঘটনায় গাজীপুরের মহাসড়কগুলোতে যান চলাচল ও সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে উত্তেজনা বিরাজ করছে।
0 মন্তব্য