রাজশাহীর সাহেববাজার এলাকায় হুইলচেয়ারে বসে মানুষের ওজন মাপছেন মোছাম্মদ রোজিনা খাতুন। সামনে রাখা একটি ওজন মাপার যন্ত্র। পাশে হাতে লেখা একটি কাগজে লেখা—‘৫ টাকার বিনিময়ে আপনার ওজন মাপুন’। প্রতিদিন এভাবেই মানুষের ওজন মেপে সামান্য আয় করেন তিনি। কারও কাছ থেকে পান পাঁচ টাকা, কেউ আবার খুশি হয়ে দেন ১০ টাকা।
ছোটবেলা থেকেই অসুস্থ রোজিনা। প্রয়োজনীয় চিকিৎসার অভাবে তাঁর দুটি পা অচল হয়ে যায়। শারীরিক প্রতিবন্ধকতা আর অভাব-অনটনের মধ্যেও পড়াশোনার প্রতি ছিল তাঁর প্রবল আগ্রহ। স্কুলের শিক্ষক, পাড়া-প্রতিবেশীদের সহযোগিতায় নানা বাধা পেরিয়ে পড়াশোনা চালিয়ে যান তিনি।
একসময় পড়াশোনা শেষ করে একটি চাকরির স্বপ্ন দেখেছিলেন রোজিনা। সেই স্বপ্ন পূরণে দিনের পর দিন অপেক্ষা করলেও এখন পর্যন্ত কোনো বেসরকারি চাকরিও জোটেনি তাঁর ভাগ্যে।
রোজিনা রাজশাহী সরকারি কলেজের সমাজকল্যাণ বিভাগ থেকে অনার্স ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন। উচ্চশিক্ষা নিয়েও কর্মসংস্থানের সুযোগ না পাওয়ায় শেষ পর্যন্ত জীবিকার তাগিদে সাহেববাজার এলাকায় হুইলচেয়ারে বসে মানুষের ওজন মাপার কাজ শুরু করেন।
প্রতিদিন সকাল থেকে বাজার এলাকায় বসে থাকেন তিনি। কেউ ওজন মেপে পাঁচ টাকা দেন, কেউবা ১০ টাকা। কখনো কোনো পথচারী খাবার কিনে দেন। এভাবেই সামান্য আয়ে চলে তাঁর দিন। তবে এই দীর্ঘ সংগ্রামের মধ্যেও এখন পর্যন্ত বড় ধরনের কোনো সহযোগিতা পাননি বলে জানা গেছে।
রোজিনার জীবনসংগ্রাম শুধু একজন মানুষের অসহায়ত্বের গল্প নয়, বরং উচ্চশিক্ষিত হয়েও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের কর্মসংস্থানের সুযোগ ও সামাজিক সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরে।
সমাজের বিত্তবান ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা এগিয়ে এলে রোজিনার জন্য একটি কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হতে পারে। তাতে হয়তো তাঁর দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান ঘটবে, ফিরবে মুখের হাসি।
0 মন্তব্য