অস্ট্রেলিয়ার জার্সিতে গ্লেন ম্যাক্সওয়েলের পথচলা শেষ। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে আসন্ন টি-টোয়েন্টি সিরিজের দলে জায়গা হয়নি তার, এরপরই তিনি অবসরের ঘোষণা দিয়ে দেন।
৩৮ বছর বয়সী এই অলরাউন্ডার আগেই ওয়ানডে থেকে অবসর নিয়েছেন। টেস্ট খেলেননি ২০১৭ সাল থেকে। ফেব্রুয়ারির টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ দলে তিনি ছিলেন। এবার সব ধরনের ক্রিকেটকেই বিদায় বলেছেন তিনি।
দ্য ফাইনাল ওয়ার্ড পডকাস্টে ম্যাক্সওয়েল টিম ম্যানেজমেন্টের সঙ্গে নিজের আলোচনার কথা জানান। তিনি বলেন, ‘বিশ্বকাপের আগে ও পরে আমাদের বেশ কয়েকবার কথা হয়েছে। আলোচনাটা ছিল খোলামেলা। অস্ট্রেলিয়া ব্যবস্থাপনার দিক থেকে কোনো চাপ ছিল না। আমরা দরজাটা খোলা রাখারই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম।’
তিনি আরও বলেন, ‘সামনে কয়েকটি সিরিজ আসছিল। দল তখন ভবিষ্যতের দিকে তাকাতে চেয়েছিল। জুনে বাংলাদেশে আমরা তা দেখেছি। তরুণরা সুযোগ পেয়েছে এবং খুব ভালো খেলেছে।’
তবে একটি আক্ষেপ তার রয়ে গেছে। ম্যাক্সওয়েল বলেন, ‘আমার ছোট্ট একটা আশা ছিল। এমসিজিতে একটা বিদায়ি ম্যাচ খেলার সুযোগ হয়তো মিলতে পারত। তবে এই দল নিয়ে তারা যেদিকে এগোচ্ছেন, তা আমি পুরোপুরি বুঝতে পেরেছি।’
বিশ্বের অন্যতম বিস্ফোরক ব্যাটার ও দারুণ ফিল্ডার ম্যাক্সওয়েলকে ডাকা হতো ‘বিগ শো’ নামে। তিনি মেলবোর্ন স্টার্সের হয়ে বিগ ব্যাশে খেলা চালিয়ে যাবেন। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে তিনি ১৪৯টি ওয়ানডে, ১৩০টি টি-টোয়েন্টি ও সাতটি টেস্ট খেলেছেন।
ম্যাক্সওয়েল রাজ্য পর্যায়ের ক্রিকেট থেকেও অবসর নিয়েছেন। ভিক্টোরিয়ার হাই পারফরম্যান্স বিভাগের জেনারেল ম্যানেজার গ্রাহাম মানউ তার অবদানের প্রশংসা করেছেন। মানউ বলেন, ‘গ্লেন ১৬ বছরেরও বেশি সময় ধরে ভিক্টোরিয়ান ক্রিকেটে অসাধারণ অবদান রেখেছেন। আমাদের রাজ্যের হয়ে খেলা সবচেয়ে প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের একজন তিনি, এতে কোনো সন্দেহ নেই।’
তিনি আরও বলেন, ‘ব্যাট, বল ও মাঠে খেলার মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা ছিল অসাধারণ। এত স্বাধীনভাবে ও আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে খেলার মানসিকতা তাকে অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটে আলাদা এক মানুষ করেছে।’
মানউ শেষে বলেন, ‘পারফরম্যান্সের বাইরেও গ্লেন ভিক্টোরিয়ার এক দারুণ সফল সময়ের অংশ ছিলেন। প্রোগ্রামে তার সব অবদানের জন্য আমরা ধন্যবাদ জানাই।’
0 মন্তব্য