ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দ মিড-ডে মিলের দুধ ও অন্যান্য খাদ্যসামগ্রী চুরির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় একটি মুদি দোকান থেকে দুই কার্টন সরকারি দুধ উদ্ধার করা হয়েছে। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর এলাকায় ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এ ঘটনায় কুন্ডা নয়াপাড়া গ্রামের আলমগীর মিয়ার ছেলে সাদির মিয়ার (২৫) নাম উঠে এসেছে।
বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক তাবারক মিয়া জানান, গত ১৭ অক্টোবর সকালে বিদ্যালয়ে গিয়ে তিনি একটি কক্ষের তালা ভাঙা দেখতে পান। পরে কক্ষের ভেতরে ঢুকে শিক্ষার্থীদের জন্য সরকারিভাবে বরাদ্দ করা দুধ ও অন্যান্য খাদ্যসামগ্রী খুঁজে পাননি। বিষয়টি তিনি প্রধান শিক্ষক ও উপজেলা শিক্ষা অফিসকে জানান।
তাবারক মিয়া বলেন, “শিশুদের খাবার চুরি করা অত্যন্ত দুঃখজনক ও নিন্দনীয়। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”
পরে খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে স্থানীয় শামসুল হক ভূঁইয়ার মুদি দোকান থেকে দুই কার্টন সরকারি দুধ উদ্ধার করা হয়।
দোকানদার শামসুল হক ভূঁইয়া জানান, সাদির মিয়া তাঁর দোকানে দুধগুলো রেখে যান। বিক্রির পর টাকা পরিশোধের কথা বলে তিনি ৫০০ টাকা অগ্রিমও নেন। তবে দুধগুলো বিদ্যালয়ের জন্য বরাদ্দ করা—এ বিষয়টি তিনি জানতেন না বলে দাবি করেন।
অন্যদিকে, চুরির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সাদির মিয়া। তাঁর দাবি, তিনি দুধ চুরি করেননি; বিদ্যালয়ের কমিউনিটি ক্লিনিকের সামনের হলঘরের পাশ থেকে সেগুলো কুড়িয়ে পেয়েছেন।
নাসিরনগর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. ইসহাক মিয়া বলেন, “বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে। আমরা ঘটনাটি থানাকে অবহিত করেছি। পুলিশ তদন্ত করছে। তদন্তে কেউ দোষী প্রমাণিত হলে তাঁর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সরকারি শিশু খাদ্য নিয়ে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।”
এদিকে, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন বিদ্যালয়ের অভিভাবক ও সচেতন মহল।
0 মন্তব্য