দেশজুড়ে চা চাষের জন্য পরিচিত পঞ্চগড়ে দীর্ঘদিনের হতাশা কাটিয়ে চা-চাষীদের মধ্যে ফিরেছে স্বস্তি ও প্রাণচাঞ্চল্য। কাঁচা চা পাতার ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় লোকসান, ঋণের চাপ ও নানা সংকটে থাকা প্রান্তিক চাষীদের মুখে এখন ফুটেছে আশার হাসি।
স্থানীয় চা-চাষীরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে উৎপাদন খরচের তুলনায় কাঁচা চা পাতার দাম কম থাকায় তারা চরম আর্থিক সংকটে ছিলেন। অনেক চাষী ব্যাংক ও বিভিন্ন এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে চা বাগান পরিচালনা করলেও কাঙ্ক্ষিত দাম না পাওয়ায় ঋণের কিস্তি পরিশোধ ও সংসারের খরচ চালাতে হিমশিম খেতে হয়েছে। কেউ কেউ বাধ্য হয়ে দিনমজুরের কাজেও যুক্ত হয়েছেন। এমনকি দেনার দায়ে কয়েকজনকে ঘরছাড়াও হতে হয়েছে বলে জানান স্থানীয়রা।
পরিস্থিতি এতটাই কঠিন হয়ে উঠেছিল যে, কোনো কোনো বড় ও বিত্তবান চাষীও চা বাগান উপড়ে ফেলে অন্য ফসল চাষের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।
তবে সম্প্রতি কাঁচা চা পাতার ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপে পরিস্থিতির পরিবর্তন এসেছে। বর্তমানে সবুজ চা পাতার দাম কেজিপ্রতি ৫০ টাকা নির্ধারণ করায় চাষীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে।
পঞ্চগড় সদর উপজেলার হাঁড়িভাসা ইউনিয়নের চা-চাষী বাবুল বলেন, “আগে কাঁচা পাতার দাম না পেয়ে আমরা চরম অনিশ্চয়তায় ছিলাম। সরকার নতুন উদ্যোগ নিয়ে সবুজ চা পাতার দাম কেজিপ্রতি ৫০ টাকা নির্ধারণ করায় আমরা অত্যন্ত উপকৃত হয়েছি।”
তিনি বলেন, জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে চাষীদের দুর্ভোগের বিষয়টি সরকারের কাছে তুলে ধরার ফলেই বর্তমান পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। এজন্য সরকার ও জেলা প্রশাসনের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।
সাতমেরা ইউনিয়নের চা-চাষী রফিকুলও একই ধরনের আশার কথা জানিয়েছেন। তার মতে, সরকার ও স্থানীয় প্রশাসন কৃষকদের পাশে থাকলে শুধু পঞ্চগড় নয়, দেশের অন্যান্য অঞ্চলের কৃষকরাও উপকৃত হবেন। সরকারের কৃষকবান্ধব উদ্যোগের ফলে তারা পরিবার নিয়ে নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখছেন।
এদিকে তেঁতুলিয়া উপজেলার এক চা-চাষী বলেন, চা শিল্পের জন্য পঞ্চগড়ের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে কৃষি উপকরণ, বিশেষ করে সারের পর্যাপ্ত ও সঠিক সরবরাহ নিশ্চিত করা জরুরি।
তিনি বলেন, সরকার যদি সারের সংকট দূর করে চাষীদের চাহিদা অনুযায়ী সুষম সার সরবরাহ নিশ্চিত করতে পারে, তাহলে চায়ের উৎপাদন আরও বাড়ানো সম্ভব হবে। এতে চাষীদের আয় বৃদ্ধির পাশাপাশি চা চাষে তাদের আগ্রহও বাড়বে।
চা-চাষীদের মতে, কাঁচা চা পাতার নির্ধারিত মূল্য ধরে রাখা এবং নিয়মিত সারসহ প্রয়োজনীয় কৃষি উপকরণ সরবরাহ নিশ্চিত করা গেলে পঞ্চগড়ের চা শিল্প আরও সমৃদ্ধ হবে।
স্থানীয় চাষীদের ঘুরে দাঁড়ানোর চিত্রই প্রমাণ করছে, সঠিক সময়ে কার্যকর সরকারি উদ্যোগ একটি কৃষিনির্ভর অঞ্চলের অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে। এখন চা-চাষীদের প্রধান দাবি—কাঁচা চা পাতার নির্ধারিত মূল্য অব্যাহত রাখা এবং প্রয়োজনীয় কৃষি সহায়তা নিয়মিত নিশ্চিত করা।
0 মন্তব্য