বরগুনা পৌরসভার বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে চরম অসন্তোষ দেখা দিয়েছে নাগরিকদের মধ্যে। নিয়মিত বর্জ্য সংগ্রহ না করা, পর্যাপ্ত ডাস্টবিন ও কমিউনিটি কন্টেইনারের সংকট, নির্ধারিত সময়ে ময়লা অপসারণ না হওয়া এবং বর্জ্য পরিবহনের সময় রাস্তায় আবর্জনা পড়ে যাওয়ায় পরিবেশ দূষণের পাশাপাশি জনভোগান্তি বাড়ছে। বিশেষ করে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা, বাজার ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কের পাশে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা ময়লা-আবর্জনা থেকে দুর্গন্ধ ও মশা-মাছির উপদ্রব বাড়ছে।
নাগরিকদের অভিযোগ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে পৌর কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ জানানোর সুযোগ থাকলেও এ বিষয়ে সাধারণ মানুষ পর্যাপ্তভাবে অবহিত নন। সচেতন মহলের কেউ কেউ অভিযোগ করলেও অনেক ক্ষেত্রে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয় না।
জানা গেছে, প্রায় ১৫ বছর আগে আবাসিক এলাকায় বাসাবাড়িতে বর্জ্য রাখার জন্য ডাস্টবিনের ব্যবস্থা করেছিল পৌর কর্তৃপক্ষ। বর্তমানে সেই ব্যবস্থা কার্যকর নেই। ফলে অনেক পরিবার নিজেদের সুবিধামতো স্থানে ময়লা-আবর্জনা ফেলছেন। বিভিন্ন কালেকশন পয়েন্ট ও কমিউনিটি কন্টেইনারের আশপাশেও ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা বর্জ্য, দুর্গন্ধ এবং মশা-মাছির উপদ্রব দেখা যায়। কোনো কোনো স্থানে দুর্গন্ধের কারণে পথচারীদের চলাচলেও ভোগান্তি হচ্ছে। বৃষ্টির সময় এবং গরমকালে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করে।
পৌর এলাকার বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায় নিয়মিত বর্জ্য সংগ্রহ করা হয় না বলেও অভিযোগ রয়েছে। প্রয়োজনের তুলনায় ডাস্টবিন, কমিউনিটি কন্টেইনার ও বর্জ্য সংগ্রহের পয়েন্টও পর্যাপ্ত নয়। ফলে অন্যান্য নাগরিক সেবার তুলনায় বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মান অত্যন্ত নিম্ন পর্যায়ে রয়েছে বলে মনে করছেন নাগরিকরা।
বর্জ্য পরিবহন ব্যবস্থাও প্রশ্নবিদ্ধ। নিয়মিত বর্জ্য পরিবহনের সময় রাস্তায় ময়লা পড়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটে। এতে দুর্গন্ধের পাশাপাশি পরিবেশ দূষণও মারাত্মকভাবে বাড়ছে।৬ নাগরিকদের দেওয়া তথ্যমতে, বর্তমানে একটি পৌর শহরের জন্য সর্বোচ্চ ১৬টি বর্জ্য পরিবহনকারী গাড়ি কার্যকর রয়েছে। অথচ একসময় ২২টি গাড়ি কার্যকর ছিল। পৌর কর্তৃপক্ষ জনবল সংকটকেও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার অন্যতম সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করেছে।
অপর্যাপ্ত ও অনিয়মিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কারণে জনস্বাস্থ্য নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। নাগরিকদের অভিযোগ, ময়লা-আবর্জনা ও অপরিচ্ছন্ন পরিবেশের কারণে ডেঙ্গু, ডায়রিয়াসহ বিভিন্ন রোগের প্রাদুর্ভাব বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। বর্জ্য ব্যবস্থাপনার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের নিয়মিত তদারকি কার্যক্রমও নাগরিকদের কাছে দৃশ্যমান নয়। অভিযোগের পরিমাণ অনেক হলেও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের হার নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
বরগুনা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আবু জাফর মোঃ সালেহ বলেন, শহরের পরিচ্ছন্নতা শুধু পৌর কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব নয়; নাগরিকদেরও সচেতন হতে হবে। তবে নাগরিকদের কাছ থেকে নিয়মিত বর্জ্য সংগ্রহ এবং তা যথাযথভাবে অপসারণে পৌর কর্তৃপক্ষকে আরও দায়িত্বশীল ও সক্রিয় হতে হবে।
পৌর নাগরিকদের দাবি, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ, পর্যাপ্ত জনবল ও যানবাহন নিশ্চিত, প্রতিটি ওয়ার্ডে পর্যাপ্ত ডাস্টবিন ও কমিউনিটি কন্টেইনার স্থাপন, নিয়মিত বর্জ্য সংগ্রহ ও অপসারণ এবং নাগরিক অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তির ব্যবস্থা করতে হবে।
0 মন্তব্য