হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলায় শিক্ষকদের তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) প্রশিক্ষণের জন্য ৫ কোটি ২৬ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন উপজেলা তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ ও শিক্ষা সম্পদ কেন্দ্রের কাজ আট বছরেও শেষ হয়নি। ২০১৮ সালে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও প্রকল্পটির অবকাঠামোগত কাজ এখনো অসম্পূর্ণ রয়েছে। ফলে কেন্দ্রটি চালু না হওয়ায় উপজেলার মাধ্যমিক, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
আট বছরেও পূর্ণতা পায়নি প্রকল্প
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, শিক্ষকদের তথ্যপ্রযুক্তিতে দক্ষ করে তোলা এবং শিক্ষা উপকরণের ব্যবহার বাড়ানোর লক্ষ্যে প্রকল্পটি হাতে নেওয়া হয়। এর প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয় ৫ কোটি ২৬ লাখ টাকা। ২০১৮ সালে এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হলেও এখনো নির্মাণকাজ পুরোপুরি শেষ হয়নি। বর্তমানে কেন্দ্রটির অবকাঠামোগত কাজ অসম্পূর্ণ এবং এটি কার্যত বন্ধ অবস্থায় রয়েছে।
ডিজিটাল শিক্ষাব্যবস্থার সঙ্গে শিক্ষকদের আরও দক্ষভাবে সম্পৃক্ত করার উদ্দেশ্যে এমন একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার কথা থাকলেও দীর্ঘসূত্রতার কারণে সেই সুবিধা পাচ্ছেন না শিক্ষকরা।
প্রশিক্ষণের জন্য যেতে হচ্ছে দূরে
স্থানীয় কয়েকজন শিক্ষক জানান, আইসিটির বিভিন্ন মৌলিক ও প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ নিতে তাদের অনেক সময় উপজেলা এলাকার বাইরে যেতে হচ্ছে। জেলা শহর কিংবা অন্য প্রতিষ্ঠানে গিয়ে প্রশিক্ষণ নেওয়ায় অতিরিক্ত সময় ও অর্থ ব্যয় হচ্ছে। মাধবপুরেই প্রশিক্ষণ কেন্দ্রটি চালু হলে এ ভোগান্তি অনেকটাই কমে আসত বলে মনে করছেন তারা।
শিক্ষকদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে নির্মাণাধীন থাকা কেন্দ্রটির কাজ দ্রুত শেষ করে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চালু করা প্রয়োজন। এতে উপজেলার শিক্ষকদের পাশাপাশি শিক্ষার্থীরাও আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার সুযোগ আরও কার্যকরভাবে পেতে পারে।
দ্রুত কাজ শেষ করার দাবি
প্রকল্পটির দীর্ঘসূত্রতায় স্থানীয় সচেতন মহল ও শিক্ষাবিদদের মধ্যেও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না হওয়ার কারণ খতিয়ে দেখে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি দ্রুত নির্মাণকাজ সম্পন্ন করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
তাদের মতে, তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষাব্যবস্থার বর্তমান সময়ে একটি প্রশিক্ষণ ও শিক্ষা সম্পদ কেন্দ্র আট বছর ধরে অসম্পূর্ণ পড়ে থাকা দুঃখজনক। দ্রুত প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করে শিক্ষক প্রশিক্ষণের জন্য উন্মুক্ত করা হলে মাধবপুরের শিক্ষা ব্যবস্থার মানোন্নয়নে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ ও অসম্পূর্ণ কাজ শেষ করে কেন্দ্রটি চালুর দাবি জানিয়েছেন শিক্ষক, শিক্ষাবিদ ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
0 মন্তব্য