কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও ভাঙচুরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে আলোচনায় এসেছেন নিউগিনি প্রপার্টিজের মালিক মোহাম্মদ নাজিমউদ্দিন ভূঁইয়া ওরফে আরজু। রাজধানীর ইসিবি চত্বর এলাকায় শনিবার রাতে ঘটে যাওয়া ওই ঘটনার পর তার বিরুদ্ধে থাকা জমি দখল, অনুমোদন ছাড়া ভবন নির্মাণ, সরকারি কর্মকর্তাদের ওপর হামলা এবং রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহারের অভিযোগগুলোও সামনে এসেছে।
পুলিশের প্রাথমিক ভাষ্য অনুযায়ী, হামলার মূল লক্ষ্য সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও ছিল না। জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধের জেরেই ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। সম্প্রতি নাজিমউদ্দিনের কাছ থেকে প্রায় ৫ হাজার বর্গফুট জায়গা ভাড়া নিয়ে সেখানে স্টুডিও করেছিলেন সালমান মুক্তাদির।
স্থানীয়দের দাবি, নিউগিনি প্রপার্টিজের ভেতরে নাজিমউদ্দিন তিনটি নতুন গেট নির্মাণ করেন।
এতে অন্য জমির মালিকদের চলাচলে বাধা সৃষ্টি হয়। এ নিয়ে বিরোধের জেরে কয়েকজন সাবেক সরকারি কর্মকর্তা লোকজন নিয়ে গেট ভাঙতে গেলে ভুলবশত সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা হয় বলে দাবি করা হচ্ছে। ব্যবসায় প্রবেশ ও রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার দাবি নাজিমউদ্দিনের গ্রামের বাড়ি লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে। জাতীয় পরিচয়পত্র অনুযায়ী, তার জন্ম ১৯৮৯ সালের ডিসেম্বরে।
২০১০ সালের দিকে ঢাকায় এসে রামপুরার একটি মাদরাসায় পড়াশোনা শুরু করেন তিনি।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, ওই সময় তিনি জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন। পরে ভাসানটেক এলাকায় ভাঙ্গারি ও থাই গ্লাসের ব্যবসা শুরু করেন। সেখান থেকে প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে যোগাযোগ তৈরি করে আবাসন ব্যবসায় আসেন এবং প্রতিষ্ঠা করেন নিউগিনি প্রপার্টিজ।
অভিযোগ রয়েছে, ক্যান্টনমেন্ট থানা আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক হাজী আব্বাসের ছত্রচ্ছায়ায় তিনি জমি দখলের কার্যক্রম শুরু করেন। এক পর্যায়ে নিজেকে গুলশান আজাদ ইউনিট আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক হিসেবেও পরিচয় দিতেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
তবে ২০২৫ সালের নভেম্বরে ওই ইউনিটের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানান, কমিটিতে নাজিমউদ্দিনের কোনো পদ নেই।
জমি দখলের অভিযোগ:
রাজধানীর জোয়ার সাহারায় জমি দখলের অভিযোগও রয়েছে নাজিমউদ্দিনের বিরুদ্ধে। অভিযোগকারীদের দাবি, সেখানে প্রায় ১৪ বিঘা জমি তার দখলে রয়েছে। এর মধ্যে কয়েকজন সাবেক সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তার জমিও রয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এ ছাড়া রাজউকের অনুমোদন ছাড়াই মানিকদীতে ভবন নির্মাণের অভিযোগে অভিযান চালানো হলে কর্মকর্তাদের ওপর হামলার অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় রাজউকের ইমারত পরিদর্শক শেখ আতিফ হোসেন ইমন থানায় মামলা করেন।
সম্পদের পরিমাণ নিয়েও প্রশ্ন:
মাত্র কয়েক বছরে বিপুল সম্পদের মালিক হওয়ার তথ্য বিভিন্ন অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। জোয়ার সাহারা ও বাউনিয়ায় কয়েক বিঘা জমি, মিরপুর ডিওএইচএসে ফ্ল্যাটসহ দেশ-বিদেশে তার সম্পদের তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ছাড়া দুবাইয়ে স্বর্ণের দোকান এবং মালয়েশিয়ায় দোকান ও তেলের পাম্পে বিনিয়োগের দাবিও রয়েছে।
সব মিলিয়ে ভাঙ্গারি ব্যবসা থেকে আবাসন ব্যবসায় এসে বিপুল সম্পদের মালিক হওয়া নাজিমউদ্দিনকে ঘিরে জমি দখল, হামলা এবং রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহারের নানা অভিযোগ সামনে এসেছে। বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে তার বিরুদ্ধে দুই ডজনের মতো মামলার তথ্যও উঠে এসেছে। তবে তার বিরুদ্ধে ওঠা এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন নাজিমউদ্দিন।
0 মন্তব্য