হবিগঞ্জের নবীগঞ্জে কিশোরী জুবা আক্তারকে ধর্ষণের পর হত্যার মামলায় খলিল উদ্দিন ও গোলাম হোসেন নামে দুই আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাদের প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
রবিবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টার দিকে হবিগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৩-এর বিচারক সৈয়দ মিনহাজুম মুনিরা আসামিদের উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট কামাল উদ্দিন সেলিম।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত খলিল উদ্দিন নবীগঞ্জ উপজেলার হরিণগর গ্রামের মিরাশ উদ্দিনের ছেলে। অপর আসামি গোলাম হোসেন একই গ্রামের ইশ্শাদ উল্লাহর ছেলে।
মামলার নথি ও রাষ্ট্রপক্ষের বক্তব্য অনুযায়ী, ২০২১ সালের ২৬ ডিসেম্বর রাত ১১টার দিকে হরিণগর গ্রামে কিশোরী জুবা আক্তারকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়। পরে তার হাত-পা বাঁধা মরদেহ কাজীরবাজার-মার্কুলী সড়কের পাশের একটি ধানখেতে ফেলে রাখা হয়।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য সেটি হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। এ ঘটনায় নিহতের বাবা ছুফি মিয়া বাদী হয়ে নবীগঞ্জ থানায় মামলা করেন। মামলায় খলিল উদ্দিন ও গোলাম হোসেনকে আসামি করা হয়।
পরে মামলাটির তদন্তভার পায় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। দীর্ঘ তদন্ত শেষে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় সংস্থাটি। বিচার চলাকালে রাষ্ট্রপক্ষের মোট ১৪ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়।
আদালতে উপস্থাপিত সাক্ষ্য ও প্রমাণ পর্যালোচনা শেষে দুই আসামিকে অপরাধের জন্য দায়ী সাব্যস্ত করা হয়। এরপর আদালত তাদের দুজনকেই মৃত্যুদণ্ড এবং ২০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দেন।
রায়ের পর সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট কামাল উদ্দিন সেলিম। তিনি বলেন, “এই রায় নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতার বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেবে। একই সঙ্গে এ ধরনের নৃশংস অপরাধ দমনে রায়টি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।”
উল্লেখ্য, প্রায় পাঁচ বছর ধরে চলা বিচারিক কার্যক্রমের পর কিশোরী জুবা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আদালত এই রায় ঘোষণা করলেন।
0 মন্তব্য