বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) নির্বাচিত কার্যনির্বাহী কমিটি ভেঙে দিয়ে অ্যাডহক কমিটি গঠনের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে রিট পিটিশন দায়ের করা হয়েছে। বিচারপতি ফাতেমা নাজিব ও বিচারপতি এ. এফ. এম. সাইফুল করিমের বেঞ্চ থেকে মামলাটি পরিচালনার অনুমতি নেয়া হয়েছে। আগামী সপ্তাহে রিটটি শুনানির জন্য উপস্থাপন করা হবে বলে জানা গেছে।
বিসিবির নির্বাচিত সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল এবং নির্বাচিত ১১ জন পরিচালকসহ মোট ১২ জন এই রিট দায়ের করেছেন। রিট পিটিশনের নম্বর ৬০৮৩/২০২৬।
রিটে উল্লেখ করা হয়, ২০২৫ সালের ৬ অক্টোবর তিন সদস্যের স্বাধীন নির্বাচন কমিশনের তত্ত্বাবধানে বিসিবির সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ওই কমিশনের একজন সদস্য ছিলেন জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের নির্বাহী পরিচালক। নির্বাচনে রিটকারীরা বিধিমতে নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
এরপর ২০২৬ সালের ৭ এপ্রিল জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ ৫ এপ্রিলের একটি তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে বিসিবির নির্বাচিত কমিটি ভেঙে দেয় এবং সাবেক জাতীয় দলের অধিনায়ক তামিম ইকবাল খান-কে চেয়ারম্যান করে একটি অ্যাডহক কমিটি গঠন করে।
রিটকারীদের অভিযোগ, কমিটি ভেঙে দেয়ার আগে তাদের কোনো নোটিশ দেয়া হয়নি। তদন্ত প্রতিবেদনের কপিও সরবরাহ করা হয়নি এবং আত্মপক্ষ সমর্থনের কোনো সুযোগ দেয়া হয়নি। তারা সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন থেকে বিষয়টি জানতে পারেন বলে রিটে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরে রিটকারীরা আইনজীবীর মাধ্যমে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের নির্বাহী পরিচালকের কাছে একটি আইনি নোটিশ পাঠান। নোটিশে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কমিটি ভেঙে দেয়ার আদেশ, তদন্ত প্রতিবেদন ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্র সরবরাহের দাবি জানানো হয়। তবে এখন পর্যন্ত কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন তারা।
রিটে ৭ এপ্রিলের সিদ্ধান্তকে অবৈধ ঘোষণার আবেদন জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে অ্যাডহক কমিটির কার্যক্রম স্থগিত রাখা এবং ভেঙে দেয়ার আদেশ ও তদন্ত প্রতিবেদনের সত্যায়িত কপি সরবরাহের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। চূড়ান্ত শুনানিতে নির্বাচিত কমিটিকে পুনর্বহালের আবেদনও করা হয়েছে।
রিটকারীদের আইনজীবীরা বলছেন, আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) মেমোরেন্ডাম ও আর্টিকেলস অব অ্যাসোসিয়েশনের ২.৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনো দেশের সরকার বা সরকারি সংস্থা ক্রিকেট বোর্ডের কার্যক্রমে হস্তক্ষেপ করতে পারে না। তাদের দাবি, সরকারের এই সিদ্ধান্ত বাংলাদেশকে আইসিসির সদস্যপদ ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে, যা দেশের ক্রিকেটের জন্য নেতিবাচক প্রভাব ডেকে আনতে পারে।
এছাড়া রিটকারীরা দাবি করেছেন, সংবিধানের ২৭, ৩১ ও ৪০ অনুচ্ছেদে স্বীকৃত মৌলিক অধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে। কোনো আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ ছাড়াই তাদের নির্বাচিত পদ থেকে কার্যত অপসারণ করা হয়েছে বলে তারা অভিযোগ করেছেন।
0 মন্তব্য