বিশ্বকাপে নজর কাড়া সেই ভোজিনিয়াকে নতুন ঠিকানায় এনে দিলো। সদ্য শেষ হওয়া বিশ্বমঞ্চে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে নজর কাড়ার পর চিলির ঐতিহ্যবাহী ক্লাব কোলো কোলোর সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন ৪০ বছর বয়সী এই অভিজ্ঞ গোলরক্ষক।
শুক্রবার (২৪ জুলাই) ক্লাবটির সভাপতি আনিবাল মোসা এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, ‘ভোজিনিয়া কোলো কোলোর খেলোয়াড় হতে যাচ্ছেন। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে তিনি চিলিতে আসবেন এবং স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে তাকে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হবে।’
সংবাদ সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, ফ্রি এজেন্ট হিসেবে থাকা ভোজিনিয়া শিগগিরই চিলিতে যাবেন। সেখানে ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন করবেন তিনি। এরপর এস্তাদিও মনুমেন্তালে তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হবে।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, কোলো কোলোর সঙ্গে ১৮ মাসের চুক্তি করেছেন ভোজিনহা।
আসল নাম জোসিমার দিয়াস হলেও ফুটবল বিশ্বে তিনি পরিচিত ভোজিনিয়া নামেই। আফ্রিকার পশ্চিম উপকূলের ছোট দ্বীপরাষ্ট্র কেপ ভার্দেকে শেষ ৩২-এ নেওয়ার পথে গোলপোস্টের নিচে দুর্দান্ত ছিলেন তিনি। অতিরিক্ত সময়ে লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনার কাছে ৩-২ গোলে হেরে বিদায় নেয় নবাগত দলটি।
তবে বিদায়ের আগেই নিজের অসাধারণ নৈপুণ্যে বিশ্বজুড়ে আলোচনায় উঠে আসেন ভোজিনিয়া। দুই ফাইনালিস্ট স্পেন এবং আর্জেন্টিনার মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে একের পর এক দুর্দান্ত সেভ করে বিশ্বকাপের আলো কেড়ে নেন। অসাধারণ পারফরম্যান্সের সুবাদে টুর্নামেন্টের সেরা একাদশে জায়গা করে নিয়েছেন তিনি।
জানা যায়, ৪০ বছর বয়সী ভোজিনিয়া পেশাদার ক্যারিয়ারে আরও এক বা দুই মৌসুম খেলতে চান। সম্প্রচারমাধ্যম সিবিএসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ভোজিনিয়া বলেন, ‘আমি এমন একটি দল চাই, যারা আমার খেলোয়াড়ি দক্ষতাকে মূল্যায়ন করবে, শুধু মার্কেটিংয়ের জন্য কিনবে না।’ সে সময় তার ইন্টার মায়ামিতে যোগ দেওয়ার গুঞ্জনও উঠেছিল।
বিশ্বকাপে দারুণ পারফরম্যান্সের প্রভাব পড়েছে ভোজিনিয়ার জনপ্রিয়তাতেও। টুর্নামেন্ট শুরুর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার অনুসারীর সংখ্যা ছিল ৫০ হাজারেরও কম। বিশ্বকাপ শেষে সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ২ কোটি ৯০ লাখে। এখন সেই জনপ্রিয়তাকে পুঁজি করে দক্ষিণ আমেরিকার অন্যতম ঐতিহ্যবাহী ক্লাব কোলো কোলোর জার্সিতে নতুন অধ্যায় শুরু করতে যাচ্ছেন কেপ ভার্দের এই অভিজ্ঞ গোলরক্ষক।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রিয় মুখ ভোজিনিয়া নতুন দল পাওয়ার ঘোষণা ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একজন লিখেছেন, ‘তার কারণে কত শিশু যে গোলরক্ষক হতে চাইবে! এটি দারুণ ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।’ এমনকি ইংরেজ মিডফিল্ডার জুড বেলিংহামও এই চুক্তির পোস্টে মন্তব্য করে লিখেছেন, ‘দ্য বেস্ট।’
0 মন্তব্য