ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলা সদরের কলেজ মোড় থেকে পূর্বভাগ ইউনিয়নের ভুবন গ্রাম পর্যন্ত ৯ কিলোমিটার সড়কের নির্মাণকাজ তিন বছরেও শেষ হয়নি। দীর্ঘদিন ধরে অসম্পূর্ণ পড়ে থাকা সড়কটির বিভিন্ন অংশে বৃষ্টি হলেই তৈরি হচ্ছে কাদা ও খানাখন্দ। এতে নাসিরনগর সদরসহ চারটি ইউনিয়নের প্রায় ৮০ হাজার মানুষ দুর্ভোগে পড়েছেন।
সম্প্রতি সড়কের বেহাল দশা নিয়ে স্থানীয় এক বাসিন্দার মাইকিংয়ের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। গত ৯ আগস্ট সৈয়দ মৌলুদ নামে ওই ব্যক্তি মাইকিং করে সড়কটি দ্রুত সংস্কারের জন্য স্থানীয় সংসদ সদস্য এম এ হান্নানের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। একই সঙ্গে তিনি গোকর্ণ ইউনিয়নের মানুষের দুর্ভোগের কথাও তুলে ধরেন।
১৮ কোটি টাকার প্রকল্প, কাজের অগ্রগতি ৬৫ শতাংশ
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা গেছে, নাসিরনগর উপজেলা সদর থেকে হবিগঞ্জের মাধবপুর পর্যন্ত সড়কটির মোট দৈর্ঘ্য ১৮ দশমিক ১ কিলোমিটার। এর মধ্যে নাসিরনগর সদর থেকে পূর্বভাগ ইউনিয়নের ভুবন গ্রাম পর্যন্ত ৯ কিলোমিটার অংশ সংস্কারের জন্য ২০২৩ সালের ২২ নভেম্বর কার্যাদেশ দেওয়া হয়।
১৮ কোটি টাকা চুক্তিমূল্যের এই কাজ পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স হাসান এন্টারপ্রাইজ। প্রকল্প অনুযায়ী সড়কটির প্রস্থ ২৪ ফুট হওয়ার কথা—এর মধ্যে ১৮ ফুট পাকা এবং ৬ ফুট মাটির অংশ।
তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে পারেনি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। ২০২৫ সালের ২৮ মার্চ কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও পরে সময় বাড়িয়ে ২০২৬ সালের ৪ মে পর্যন্ত করা হয়। বর্ধিত সময়েও কাজ শেষ না হওয়ায় এবার তৃতীয় দফায় ২০২৭ সালের ৪ মে পর্যন্ত সময় বাড়ানোর আবেদন করেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।
এদিকে ১৮ কোটি টাকা চুক্তিমূল্যের বিপরীতে এখন পর্যন্ত ঠিকাদার ৯ কোটি ১৮ লাখ টাকা বিল উত্তোলন করেছেন। প্রকল্পের সার্বিক অগ্রগতি প্রায় ৬৫ শতাংশ।
সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা গেছে, নাসিরনগর কলেজ মোড় থেকে ফুলপুর পর্যন্ত প্রায় ৩ কিলোমিটার অংশে কার্পেটিং করা হয়েছে। ফুলপুর সেতু থেকে নুরপুর সড়ক বাজারের আগ পর্যন্ত প্রায় ১ কিলোমিটার অংশে ম্যাকাডাম করা হয়েছে। নুরপুর সড়ক বাজারের প্রায় ২০০ মিটার অংশে ঢালাইয়ের কাজও শেষ হয়েছে।
তবে নুরপুর থেকে চৈয়ারকুড়ি বাজার পর্যন্ত প্রায় ৩ কিলোমিটার অংশে ম্যাকাডাম করা হলেও সাম্প্রতিক বৃষ্টিতে সেখানে তৈরি হয়েছে অসংখ্য খানাখন্দ ও কাদা। আর চৈয়ারকুড়ি বাজার থেকে ভুবন গ্রামের দিকে প্রায় ৬ কিলোমিটার অংশ ভাঙাচোরা ও খানাখন্দে ভরা।
স্থানীয় জেঠাগ্রামের বাসিন্দা মিজান মিয়া বলেন, “সড়কের অবস্থা খুব খারাপ। আমরা কষ্টে আছি।”
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী খায়রুল হাসান বলেন, বর্ষা মৌসুমের কারণে জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বর—এই তিন মাস সড়কে কার্পেটিংয়ের কাজ বন্ধ রাখতে হয়। সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে পুরোদমে কাজ শুরু করা হবে বলে জানান তিনি।
কাজে বিলম্বের আরেকটি কারণ হিসেবে বন বিভাগের গাছ কাটতে দেরি হওয়ার কথা উল্লেখ করেন খায়রুল হাসান। তাঁর দাবি, গাছ কাটতে সময় লাগায় সড়কের সংশ্লিষ্ট অংশ সময়মতো বুঝে পাওয়া যায়নি।
তবে সড়কের বর্তমান বেহাল অবস্থার জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের গাফিলতিকে দায়ী করেছেন এলজিইডির নাসিরনগর উপজেলা প্রকৌশলী আবদুল মমিন।
তিনি জানান, ঠিকাদার আবারও কাজের মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন করেছেন। এবার দ্রুত কাজ শেষ হবে বলে তাঁরা আশা করছেন।
নাসিরনগর সদর, গোকর্ণ, পূর্বভাগ ও হরিপুর ইউনিয়নের বাসিন্দাদের পাশাপাশি হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার মানুষও গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি ব্যবহার করেন। দীর্ঘদিন ধরে নির্মাণকাজ অসম্পূর্ণ থাকায় প্রতিদিনই দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে তাঁদের।
স্থানীয়দের দাবি, বর্ষা ও কাদার দুর্ভোগ থেকে মুক্তি দিতে দ্রুততম সময়ের মধ্যে সড়কটির নির্মাণকাজ শেষ করা হোক।
0 মন্তব্য