জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে চলমান সংঘাত নিয়ে কঠোর অবস্থান জানিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। বুধবারের ভাষণে তিনি বলেন, নিষেধাজ্ঞা, সামরিক চাপ ও হুমকির মুখেও ইরান মাথা নত করবে না।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর পর জাতিসংঘে এটিই ছিল পেজেশকিয়ানের প্রথম ভাষণ। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ‘সন্ত্রাসবাদের’ অভিযোগ তুলে বলেন, ইরান কখনো কোনো যুদ্ধ শুরু করেনি। তাঁর বক্তব্যে সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির নিহত হওয়ার ঘটনাও উঠে আসে।
পেজেশকিয়ান বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে বুঝতে হবে—নিষেধাজ্ঞা, বাড়তি চাপ ও হুমকি ইরানি জনগণের প্রতিরোধ আরও বাড়াবে। একই সঙ্গে তিনি জানান, শক্তি প্রয়োগের ভাষা মেনে না নিয়ে কূটনীতি ও আলোচনার মাধ্যমে সংকট সমাধানের বিষয়ে তেহরান প্রস্তুত।
হরমুজ প্রণালি নিয়েও কঠোর বার্তা
ভাষণে গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি নিয়েও অবস্থান তুলে ধরেন ইরানের প্রেসিডেন্ট। তাঁর বক্তব্য, এই জলপথকে ইরানের বিরুদ্ধে চাপ প্রয়োগ বা আগ্রাসনের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না। যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে হরমুজ প্রণালিতে চলাচল নিয়ে উত্তেজনা বিশ্ববাজারেও প্রভাব ফেলেছে।
পেজেশকিয়ান বলেন, কোনো পক্ষ একই জলপথ থেকে নিজেদের স্বার্থসিদ্ধি করবে এবং একই সঙ্গে সেটিকে ব্যবহার করে ইরানের ওপর চাপ বা আগ্রাসন চালাবে—তেহরান তা মেনে নেবে না।
ট্রাম্পের বক্তব্যের এক দিন পর পেজেশকিয়ানের ভাষণ । পেজেশকিয়ানের ভাষণের এক দিন আগে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে বক্তব্য দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি ইরানকে নিয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি দেওয়ার পাশাপাশি তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে আলোচনার সম্ভাবনার কথাও বলেন।
অন্যদিকে পেজেশকিয়ান তাঁর ভাষণে শক্তি প্রয়োগের বিরোধিতা করলেও কূটনীতির পথ পুরোপুরি বন্ধ করেননি। তিনি বলেন, ইরান আলোচনা ও কূটনীতির জন্য প্রস্তুত, তবে চাপের ভাষা গ্রহণ করবে না।
পেজেশকিয়ানের বক্তব্যের সময় জাতিসংঘে থাকা মার্কিন প্রতিনিধি কক্ষ ত্যাগ করেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। ইসরাইলি প্রতিনিধিদলও তাঁর বক্তব্য বর্জন করে।
ভিসা নিয়ে অনিশ্চয়তার পর জাতিসংঘে পেজেশকিয়ান । জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে পেজেশকিয়ানের অংশগ্রহণ নিয়েও আগে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র তাঁকে ভিসা দেয়। তবে তাঁর সফরসঙ্গীদের কয়েকজন ভিসা পাননি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
জাতিসংঘে গুরুত্ব পেল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা। এদিকে বুধবারের জাতিসংঘের আলোচনায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ভবিষ্যৎ ও নিরাপত্তা নিয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়। প্রযুক্তি খাতের নেতারা অনিয়ন্ত্রিত এআই ব্যবস্থার সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে সতর্কতার আহ্বান জানান।
ওপেনএআইয়ের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা স্যাম অল্টম্যান এআই উন্নয়নে সতর্কতার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন। অ্যানথ্রপিকের প্রধান নির্বাহী দারিও আমোদেইও নতুন এআই ব্যবস্থা বাজারে আনার ক্ষেত্রে নিরাপত্তাকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানান।
এর আগের দিন ট্রাম্প এআই নিয়ন্ত্রণে আন্তর্জাতিক উদ্যোগের বিরোধিতা করেছিলেন।
0 মন্তব্য