তাইওয়ানের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র বিক্রির বিষয়টি চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের কাছে ভিন্নভাবে তুলে ধরেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এমনকি একপর্যায়ে শি জিনপিং যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র কিনতে আগ্রহী কি না, সেটিও জানতে চেয়েছিলেন ট্রাম্প। রবিবার মার্কিন রাষ্ট্রদূত ডেভিড পারডিউ এ তথ্য জানিয়েছেন।
ফক্স নিউজ সানডেতে শ্যানন ব্রিমের সঙ্গে আলাপকালে পারডিউ বলেন, ট্রাম্প চীনের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র বিক্রির সম্ভাবনার কথাও তুলেছিলেন। তবে ঠিক কখন এ প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল, তা তিনি জানাননি।
পারডিউর বক্তব্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের ভূরাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী চীনের কাছে অস্ত্র বিক্রির এমন প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে দেশটির দীর্ঘদিনের নীতিতে বড় পরিবর্তন আসতে পারে। একই সঙ্গে মার্কিন সামরিক প্রযুক্তি সম্ভাব্য প্রতিপক্ষের হাতে যাওয়ার বিষয়টিও সামনে আসতে পারে।
ফক্স নিউজের শ্যানন ব্রিম এর আগে তাইওয়ানের জন্য বিলম্বিত সহায়তা ও অস্ত্রের চালান নিয়ে রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতাদের উদ্বেগের কথা তুলে ধরেন। চীনের হুমকির মুখে আত্মরক্ষার জন্য অস্ত্র প্রয়োজন হওয়া সত্ত্বেও চীনের প্রেসিডেন্টকে সন্তুষ্ট করতে যুক্তরাষ্ট্র তাইওয়ানকে অস্ত্র দেওয়া থেকে বিরত থাকছে কি না, সে প্রশ্নও করেন তিনি।
জবাবে পারডিউ বলেন, তাইওয়ানের বিষয়ে ট্রাম্পকে তিনি যতটা শক্ত অবস্থানে দেখেছেন, আর কাউকে ততটা দেখেননি। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে তাইওয়ানকে প্রচুর অস্ত্র বিক্রি করেছে। ভবিষ্যতেও তাইওয়ানের কাছে মার্কিন অস্ত্র বিক্রির বিষয়টি নিয়ে ট্রাম্প ও শির মধ্যে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।
পারডিউ বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বারবার বলেন, আমরা বিশ্বের অন্য দেশগুলোর কাছেও অস্ত্র বিক্রি করি। একপর্যায়ে তিনি প্রেসিডেন্ট শিকেও জিজ্ঞেস করেছিলেন, তিনি কিছু অস্ত্র কিনতে চান কি না।’
তাইওয়ানকে আত্মরক্ষার সক্ষমতা দেওয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র তাইওয়ানকে একটি দেশ হিসেবে স্বীকৃতি দেয় না। এরপরও দ্বীপটির সবচেয়ে শক্তিশালী অনানুষ্ঠানিক সমর্থক ও অস্ত্র সরবরাহকারী দেশ যুক্তরাষ্ট্র। চীন তাইওয়ানকে নিজেদের ভূখণ্ডের অংশ বলে দাবি করে এবং প্রয়োজনে শক্তি প্রয়োগের কথাও বলে আসছে।
তাইওয়ানের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র বিক্রি বন্ধের জন্য দীর্ঘদিন ধরে ওয়াশিংটনের ওপর চাপ দিয়ে আসছে বেইজিং। মে মাসে বেইজিংয়ে ট্রাম্প ও শির আগের বৈঠকেও বিষয়টি গুরুত্ব পায়। ওই বৈঠকের পর যুক্তরাষ্ট্র ১৪ বিলিয়ন ডলারের রেকর্ড পরিমাণ অস্ত্র বিক্রির একটি প্যাকেজ স্থগিত করে। পরে ট্রাম্প চীনের সঙ্গে আলোচনায় তাইওয়ানের কাছে অস্ত্র বিক্রিকে ‘খুব ভালো দর-কষাকষির হাতিয়ার’ হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন।
গত সপ্তাহে হোয়াইট হাউসে ট্রাম্প ও শির ব্যক্তিগত বৈঠকেও তাইওয়ান প্রসঙ্গ উঠে আসে। চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, বৈঠকে শি জিনপিং তাইওয়ানের স্বাধীনতার বিরোধিতা করতে ট্রাম্পের প্রতি আহ্বান জানান।
সূত্র: এপি
0 মন্তব্য