তাড়াশ উপজেলার ক্ষিরসিন-শিলংদহ সংযোগ সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়ায় চরম বেহাল দশায় পরিণত হয়েছে। অবহেলা আর খানাখন্দে ভরা এই কাঁচা রাস্তাটির কারণে প্রতিনিয়ত ভোগান্তি পোহাচ্ছেন ক্ষিরসিন, গুড়মা, আড়ংগাইলের অধিকাংশ এবং বিশেষ করে শিলংদহ গ্রামের হাজার হাজার মানুষ।
ইউনিয়ন পরিষদ ও স্থানীয় হাট-বাজারে যাতায়াতের জন্য এটি শিলংদহ গ্রামের বাসিন্দাদের প্রধান মাধ্যম হলেও বর্তমানে রাস্তাটি চলাচলের একেবারেই অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। কর্তৃপক্ষের নজরদারি না থাকায় ক্ষুব্ধ স্থানীয় যুবকরা রূপক প্রতিবাদ হিসেবে রাস্তার কাদা-পানিতে ধান রোপণ করেছেন।
অত্র এলাকার অধিকাংশ মানুষ কৃষি নির্ভর। রাস্তা খারাপ থাকায় গ্রামের কৃষকরা সময়মতো ফসল বাজারে নিতে পারছে না। পরিবহন খরচ দ্বিগুণ হয়ে যাওয়ায় তারা পণ্যের ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। ফলে উৎপাদিত ফসল বিক্রি ও পরিবহন নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় কৃষকেরা।
জরুরি চিকিৎসাসেবা বা কোনো আইনি ও প্রশাসনিক সহায়তার প্রয়োজন হলেও গ্রামে অ্যাম্বুলেন্স কিংবা কোনো যানবাহন প্রবেশ করতে পারে না। ফলে মুমূর্ষু রোগী ও প্রসূতিদের হাসপাতালে নেওয়ার ক্ষেত্রে বড় ধরণের ঝুঁকি ও বিপদের সম্মুখীন হতে হচ্ছে।
এই সড়কটিতে অবস্থিত শিলংদহ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ক্ষিরসিন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। যাতায়াত ব্যবস্থা করুণ হওয়ায় শিক্ষকরা প্রায়ই সময়ে বিদ্যালয়ে পৌঁছাতে পারেন না। একই সাথে কাদা ও জলাবদ্ধতা পেরিয়ে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বিদ্যালয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে।
ক্ষিরসিন গ্রামের বড় মন্দিরটি এই রাস্তার পাশেই অবস্থিত। পাশাপাশি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শ্মশানঘাটটিও এই পথের ধারে। রাস্তাটি অচল হয়ে পড়ায় ধর্মপ্রাণ মানুষজন নিয়মিত ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে অংশ নিতে পারছে না। এমনকি কারও মৃত্যু হলে সৎকার বা শেষকৃত্যের জন্য মরদেহ শ্মশানে নিয়ে যাওয়া এক চরম অমানবিক ও কষ্টকর হয়ে দাঁড়িয়েছে।
দীর্ঘদিনের এই মানবিক সংকট ও যাতায়াত যন্ত্রণা থেকে এলাকাবাসীকে মুক্তি দিতে মাঠে নেমেছে তাড়াশ উপজেলার ‘দেশীগ্রাম ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবী যুব ফোরাম’। রাস্তাটি দ্রুত পাকাকরণের দাবিতে তারা স্থানীয় পর্যায়ে নানামুখী সামাজিক কার্যক্রম ও জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম শুরু করেছে।
উক্ত ফোরামের প্রতিনিধিরা জানান, এটি শুধু একটি রাস্তা নয়, বরং এলাকার হাজার হাজার মানুষের জীবনযাত্রার মান ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের চাবিকাঠি। অবহেলিত এই জনপদের প্রাণের দাবি বাস্তবায়নে তারা ইউনিয়নের সর্বস্তরের জনগণ এবং উপজেলা প্রশাসনের দ্রুত সুদৃষ্টি ও কার্যকর ভূমিকা সহযোগিতা কামনা করেন।
নিত্যদিনের জরুরি কর্মকাণ্ড পরিচালনা ও গ্রামীণ জীবনযাত্রা স্বাভাবিক করতে সড়কটি দ্রুত পাকা করার জোর দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।
0 মন্তব্য