অনেক প্রত্যাশা নিয়ে আসিয়ান কাপে অংশ নিয়েছে বাংলাদেশ দল। তবে প্রথম ম্যাচেই বাজেভাবে হোঁচট খেয়েছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। নিজেদের প্রথম ম্যাচে শক্তিশালী মালয়েশিয়ার বিপক্ষে ৩-০ গোলের ব্যবধানে হেরেছে জামাল-হামজারা। এতে হার নিয়ে টুর্নামেন্টে শুরু হলো বাংলাদেশের।
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) ম্যাচের শুরু থেকেই বাংলাদেশের ওপর চাপ সৃষ্টি করে খেলতে থাকে মালয়েশিয়া। চতুর্থ মিনিটে কর্নার থেকে বল ফিরে আসার পর মালয়েশিয়ার হালিম ফয়সালের দূরপাল্লার শট ফিস্ট করে কর্নারের বিনিময়ে ফেরান গোলরক্ষক মেহেদী হাসান শ্রাবণ।
এরপর সোহেল রানাকে ফাউল করে মালয়েশিয়ার বার্গসন ম্যাচের প্রথম হলুদ কার্ড দেখলেও, নবম মিনিটে চেং কুয়েন্টিংকে অহেতুক ফাউল করে হলুদ কার্ড দেখেন বাংলাদেশের রাকিব হোসেন। রক্ষণ সামলাতে ব্যস্ত থাকা বাংলাদেশ প্রথম ধাক্কাটি খায় ম্যাচের ১৮তম মিনিটে।
নিজেদের অর্ধ থেকে লিয়ানে নোয়ার উড়িয়ে মারা বল বাংলাদেশের রক্ষণদেয়াল পেরিয়ে নিয়ন্ত্রণে নেন আরিফ আইমান। ডান দিক দিয়ে বক্সে ঢুকে ডিফেন্ডার শাকিল আহাদ তপুর কড়া পাহারা এড়িয়ে কোনাকুনি নিচু শটে বল জালে জড়ান এই মালয়েশিয়ান ফরোয়ার্ড।
পিছিয়ে পড়ে ম্যাচে ফেরার চেষ্টা চালায় সোহেল রানার দল।
২৫ মিনিটে মাঝ মাঠে হামজা চৌধুরী ও ফাহামিদুলরা নিজেদের মধ্যে বল দেওয়া-নেওয়া করে দারুণ আবহ তৈরি করলেও সোহেল রানার ভুল পাসে তা ভেস্তে যায়। উল্টো বল পেয়ে বার্গসন কাউন্টার অ্যাটাকে গিয়ে নিচু শট নেন, যা অল্পের জন্য ডান পোস্ট ঘেঁষে বেরিয়ে যায়।
কিছুক্ষণ পরেই সোহেল রানার দারুণ এক পাস ধরে বাঁ প্রান্ত দিয়ে আক্রমণে ওঠেন অভিষিক্ত ফারহান। বল নিয়ে প্রতিপক্ষের বিপদসীমায় ঢুকে পড়লেও মালয়েশিয়ান ডিফেন্ডারদের বাধায় শট নিতে ব্যর্থ হন ইংলিশ ক্লাব বোরহাম উডে খেলা এই উইঙ্গার। ৩৩ মিনিটে ফাহামিদুলের কাছ থেকে বল নিয়ে বক্সে ক্রস দেন সমিত সোম। ফাঁকায় বল পেলেও রাকিব হোসেনের শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়।
খেলার ৩৭ মিনিটে তপুর চরম ভুলে ব্যবধান ২-০ করে মালয়েশিয়া। বক্সের সামনে তপুর পায়ে বল দেখে অনেকটা দূর থেকে ছুটে এসে বল কেড়ে নেন বার্গসন। তার পাস থেকেই এগিয়ে আসা গোলরক্ষক শ্রাবণের মাথার ওপর দিয়ে জোরালো শটে নিজের দ্বিতীয় গোলটি আদায় করে নেন আরিফ আইমান।
বিরতির ঠিক আগে ব্যবধান ৩-০ হতে পারত। তবে ফয়সাল হালিমের স্লাইড শট শেষ মুহূর্তে রুখে দিয়ে বাংলাদেশকে আরও বড় বিপদ থেকে বাঁচান শ্রাবণ। শেষ পর্যন্ত ২-০ গোলে পিছিয়ে থেকেই বিরতির ড্রেসিংরুমে ফেরে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।
বিরতির পর ব্যবধান বাড়াতে দেরি করেননি বার্গসন। কোরবিন লাভেরের লং পাসে বক্সে বা পায়ে বল নামিয়ে ঘুরে ডান পায়ের নিচু শটে শ্রাবণকে পরাস্ত করেন বার্গসন। ৩-০ গোলে এগিয়ে যায় মালয়েশিয়া। খানিক পর মাঠে নামেন মোরসালিন ও জিদান ইউসুফ। বাংলাদেশের জার্সিতে এটিই জিদানের প্রথম ম্যাচ।
৭৬ মিনিটে ব্যবধান কমানোর দারুণ সুযোগ আসে বাংলাদেশের সামনে। শাহরিয়ার ইমনের সঙ্গে বল দেওয়া নেওয়া করে প্রতিপক্ষের বিপদসীমায় ঢুকে পড়েন হামজা। এরপর কয়েকজন ডিফেন্ডারের বাধা অতিক্রম করে পোস্টের কোনা থেকে ডান পায়ের জোরালো শট নেন। কিন্তু গোলকিপার দারুণ ক্ষীপ্রতায় রুখে দেন। এরপর হামজার দ্বিতীয় প্রচেষ্টাও আটকে দেন এই গোলকিপার।
এই সময় দারুণ ফুটবল খেলে বাংলাদেশ। ৮২ মিনিটে ইমনের শটে আরেকটু জোর থাকলে গোল পেতে পারতেন তিনি। প্রতি আক্রমণে মালয়েশিয়ার টিয়ার্নি ফার্গুসের গতিময় উচু শট লাফিয়ে রুখে দেন শ্রাবণ। শেষ পর্যন্ত ৩-০ গোলে হেরে মাঠ ছাড়ে বাংলাদেশ।
0 মন্তব্য