আসন্ন পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে পটুয়াখালী জেলায় কোরবানিযোগ্য গবাদি পশুর পর্যাপ্ত মজুত আছে। এমনকি চাহিদার তুলনায় প্রায় ১৫ হাজারেরও বেশি পশু উদ্বৃত্ত থাকবে বলে জানিয়েছে জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর।
এদিকে কোরবানির ঈদকে ঘিরে জেলার বিভিন্ন উপজেলার খামারিরা এখন গবাদি পশুর পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। কেউ গরু মোটাতাজাকরণে মনোযোগ দিচ্ছেন। আবার কেউ বাড়ির আঙিনায় ছোট পরিসরে খামার গড়ে তুলেছেন।
জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, পটুয়াখালী জেলায় মোট খামারের সংখ্যা ৬ হাজার ৪২১টি।
এছাড়া ৭৫৮ জন খামারিকে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে। প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত অনেক তরুণ ও যুবক স্বল্প পরিসরে নিজ উদ্যোগে গরু মোটাতাজাকরণ শুরু করেছেন। প্রাণিসম্পদ বিভাগ থেকে তাদের নিয়মিত পরামর্শ ও কারিগরি সহায়তা দেয়া হচ্ছে।
বাউফল উপজেলার উত্তর মমিনপুর গ্রামের গরুর খামারি ফোরকান আকন (৫০) বলেন, তার খামারে প্রায় ৩০টি গরু রয়েছে, পাশাপাশি কয়েকটি ছাগলও পালন করছেন। তিনি জানান, নিয়মিত পরিচর্যা, উন্নত খাবার ও চিকিৎসা নিশ্চিত করায় তার গরুগুলো ভালো অবস্থায় রয়েছে। এ বছর কোরবানির বাজারে ভালো দাম পাওয়ার তিনি বেশ আশাবাদী।
একই গ্রামের ইউনূস আকন (৬০) বলেন, ‘আমার খামারে ১২থেকে ১৪টি গরু রয়েছে। পাশাপাশি কিছু ছাগলও আছে। সারা বছর ধরে কষ্ট করে এগুলো লালন-পালন করি। কোরবানির সময়টা আমাদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। যদি বাজার ভালো থাকে, তাহলে এ বছর ভালো লাভ হবে বলে আশা করছি। তবে পশুখাদ্যের দাম কিছুটা বেশি হওয়ায় খরচও বেড়েছে।’
উপজেলার কালাইয়া কোর্টপার এলাকার এসাহাক শরীফ (৬০) বলেন, ‘আমার খামারে বর্তমানে ১০-১২টি গরু রয়েছে। কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে আরও কয়েকটি গরু কেনার পরিকল্পনা রয়েছে। পরে এগুলো মোটাতাজা করে হাটে বিক্রি করবো। প্রতি বছরই এই মৌসুমে কিছুটা লাভ হয়, আশা করছি এবারও তার ব্যতিক্রম হবে না।’
চর কালাইয়া গ্রামের মসিউর সিপাহী (৬৫) বলেন, ‘আমার কাছে ২০ থেকে ২৫টি মহিষ আছে। দীর্ঘদিন ধরে মহিষ পালন করছি। এ বছরও ভালোভাবে পরিচর্যা করেছি। কোরবানির সময় মহিষের চাহিদা বাড়ে, তাই আশা করছি ভালো দামে বিক্রি করতে পারবো এবং লাভবান হবো।’
অতি সম্প্রতি জেলার কোরবানিযোগ্য গবাদিপশুর প্রাপ্যতা ও চাহিদার চিত্র প্রকাশ করেছে জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর। প্রকাশিত তথ্যে দেখা যায়, জেলার বিভিন্ন উপজেলায় গরু, মহিষ, ছাগল ও ভেড়াসহ বিপুল সংখ্যক পশু প্রস্তুত রয়েছে।
উপজেলাভিত্তিক তথ্য অনুযায়ী: সদর উপজেলায় গরু ১৩ হাজার ৮০৩টি, মহিষ ৩৫৫টি, ছাগল ৬ হাজার ৭৫১টি এবং ভেড়া ৭৩০টি মিলে মোট ২১ হাজার ২৮৯টি পশু রয়েছে।
বাউফল উপজেলায় গরু ২০ হাজার ৪৮২টি, মহিষ ৩২২টি, ছাগল ৪ হাজার ৮০৪টি এবং ভেড়া ৭৯১টি মিলে মোট ২৫ হাজার ৭৯৬টি পশু প্রস্তুত রয়েছে।
কলাপাড়া উপজেলায় গরু ১১ হাজার ৮৮৫টি, মহিষ ২৬৬টি, ছাগল ৬ হাজার ১৩৬টি এবং ভেড়া ১ হাজার ৩শ’টি মিলে মোট ২০ হাজার ৬টি পশু রয়েছে।
গলাচিপা উপজেলায় গরু ১৬ হাজার ১২০টি, মহিষ ৫৫৯টি, ছাগল ৪ হাজার ৮০৮টি এবং ভেড়া ৩৬৪টি মিলে মোট ২১ হাজার ৮৫১টি পশু প্রস্তুত রয়েছে।
দশমিনা উপজেলায় গরু ৭ হাজার ৭১৮টি, মহিষ ৫৫৬টি, ছাগল ৬ হাজার ১৩৬টি এবং ভেড়া ৮৯৪টি মিলে মোট ১৪ হাজার ৩০৪টি পশু রয়েছে।
মির্জাগঞ্জ উপজেলায় গরু ১৪ হাজার ৭৮২টি, মহিষ ১৯১টি, ছাগল ৫ হাজার ২৫৫টি এবং ভেড়া ২৪টি মিলে মোট ১৯ হাজার ৬৬১টি পশু প্রস্তুত রয়েছে।
দুমকি উপজেলায় গরু ৪ হাজার ৫২৬টি, মহিষ ২০টি, ছাগল ৫ হাজার ৬৩০টি মিলে মোট ১০ হাজার ১৫৬টি পশু রয়েছে।
রাঙ্গাবালী উপজেলায় গরু ২ হাজার ৬৮৮টি, মহিষ ৫১টি, ছাগল ৮৩৬টি এবং ভেড়া ৬২১টি মিলে মোট ৪ হাজার ৮০৫টি পশু প্রস্তুত রয়েছে।
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার কার্যালয়ের তথ্যমতে, জেলায় মোট কোরবানিযোগ্য পশুর সংখ্যা ১ লাখ ৩৭ হাজার ৯১৮টি। বিপরীতে চাহিদা রয়েছে ১ লাখ ২২ হাজার ৬৩৩টি। এতে ১৫ হাজার ২৮০টি পশু উদ্বৃত্ত থাকবে।
পটুয়াখালী জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. হাবিবুর রহমান বলেন, ‘জেলায় কোরবানির পশুর কোনো সংকট নেই। স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত পশু দিয়েই জেলার চাহিদা পূরণ করা সম্ভব। আমরা খামারিদের প্রশিক্ষণ ও সার্বিক সহযোগিতা দিয়ে আসছি। আশা করছি, খামারিরা ন্যায্য মূল্য পাবেন এবং ক্রেতারাও স্বাস্থ্যসম্মত ও নিরাপদ পশু কিনতে পারবেন।’
0 Comments