জেলায় ৩ কোটি ১৮ লাখ টাকা মূল্যের মাদকদ্রব্য ধ্বংস করলো বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
আজ বুধবার বেলা সাড়ে ১১ টায় ৬-বিজিবি ব্যাটালিয়ন চুয়াডাঙ্গা কার্যালয়ে এ মাদকদ্রব্য ধ্বংস করা হয়। ধ্বংসকৃত মাদকদ্রব্যের মধ্যে রয়েছে মদ, ফেন্সিডিল, গাঁজা, হেরোইন, কোকেন, বিয়ার ও নেশা জাতীয় ট্যাবলেট।
বিজিবি সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ১ আগস্ট থেকে ২০২৫ সালের ৩১ জুলাই পর্যন্ত চুয়াডাঙ্গা ও মেহেরপুর জেলার সীমান্ত এলাকায় অভিযান চালিয়ে চোরাচালানে জড়িত ৪৯ জন আসামিকে আটক করা হয়। এ সময় উদ্ধার করা হয় ৩৪ কোটি ২০ লাখ ৪১ হাজার ৫৩৫ টাকা মূল্যের মাদকদ্রব্য ও অন্যান্য চোরাচালান পণ্য। এর মধ্যে মালিকবিহীন অবস্থায় উদ্ধারকৃত মাদকদ্রব্য আজ ধ্বংস করা হয়।
এ উপলক্ষে চুয়াডাঙ্গা-৬ বিজিবি ব্যাটালিয়ন কার্যালয়ে আজ এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
বিজিবির যশোর রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাহমুদুল হাসান, পিবিজিএম, বিপিএম (সেবা) প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন।
তিনি বলেন, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ মাদকমুক্ত দেশ গঠনে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। 'জিরো টলারেন্স' নীতির আলোকে বিজিবির প্রতিটি সদস্য সীমান্তে দিন-রাত নিরলসভাবে দায়িত্ব পালন করে মাদক চোরাচালান প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। মাদক একটি বহুমাত্রিক ও জটিল সামাজিক সমস্যা। এ সমস্যা মোকাবিলায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি সর্বস্তরের জনগণের অংশগ্রহণ অপরিহার্য। তিনি মাদকবিরোধী জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার জন্য সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন বিজিবির কুষ্টিয়া সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার কর্ণেল মোহাম্মদ ইফতেখার হোসেন, পিবিজিএম, বিজিওএম, পিএসসি। অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন, ৬ বিজিবি অধিনায়ক লে. কর্ণেল মো. নাজমুল হাসান।
পরে প্রধান অতিথি আমন্ত্রিত অতিথিদের সাথে নিয়ে মাদকদ্রব্য ধ্বংস কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন।
উল্লেখ্য, এক বছরে মালিকবিহীন অবস্থায় আটক করা মাদক আজ ধ্বংস করা হয়। ধ্বংসকৃত মাদকের মধ্যে রয়েছে ৩ হাজার ৯৮৩ বোতল বিদেশি মদ, ১০ হাজার ৬১৭ বোতল ভারতীয় ফেন্সিডিল, ২৯ বোতল ভারতীয় বিয়ার, ২৩৮.৭৯ কেজি ভারতীয় গাঁজা, ১.৮৫৭ কেজি হেরোইন, ১.৮৯ কেজি কোকেন, ২৫ হাজার ৪৮৫ পিস ভারতীয় বিভিন্ন প্রকার নেশা জাতীয় ট্যাবলেট এবং ১৯ পিস ভারতীয় নেশা জাতীয় ইনজেকশন ধ্বংস করা হয়। এসব মাদকের আনুমানিক মূল্য ৩ কোটি ১৮ লাখ ৭৬ হাজার ৬৬৫ টাকা।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, চুয়াডাঙ্গা সিভিল সার্জন ডা. হাদি জিয়া উদ্দিন আহমেদ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম এন্ড অপস) জামাল আল নাসের, সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোস্তফা কামাল, মুজিবনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম, চুয়াডাঙ্গা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিদর্শক বদরুল হাসান প্রমুখ।
0 Comments