হরমুজে জাহাজে হামলার জেরে ইরানে নতুন মার্কিন হামলা, আরও কঠোর হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের।হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার জেরে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে সামরিক হামলা শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। বুধবার মার্কিন সামরিক বাহিনী জানায়, গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে নিরাপদ নৌচলাচল নিশ্চিত করতেই নতুন হামলা চালানো হচ্ছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ইরান যদি হরমুজ প্রণালিতে জাহাজে হামলা অব্যাহত রাখে, তাহলে এর চেয়েও কঠোর জবাব দেওয়া হবে। ট্রুথ সোশ্যালে তিনি লেখেন, “গতকালের জাহাজে হামলার প্রতিশোধ হিসেবে এই অভিযান। আবার এমন হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হবে।”
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, ইরানের উপকূলজুড়ে প্রায় ৯০টি সামরিক স্থাপনায় হামলা চালানো হয়েছে। এর মধ্যে ছিল আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, উপকূলীয় নজরদারি কেন্দ্র, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের গুদাম, নৌ সক্ষমতা এবং সামরিক সরবরাহ অবকাঠামো।
এর আগে ৭ জুলাই চালানো আরেক দফা হামলায় ইরানের প্রায় ৮০টি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা হয়। সেন্টকমের দাবি, ওই অভিযানে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) ৬০টিরও বেশি ছোট নৌযান ধ্বংস করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ভাষ্য অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালিতে তিনটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার জবাব হিসেবেই এসব অভিযান চালানো হচ্ছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানায়, কিশ দ্বীপ, বন্দর আব্বাস, কোনারাক ও চাবাহারসহ দক্ষিণাঞ্চলের একাধিক এলাকায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহও বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।
এদিকে ইরানের প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ বলেছেন, “হরমুজ প্রণালি শুধু ইরানের ব্যবস্থাপনাতেই খোলা থাকবে। যুক্তরাষ্ট্র এখনো শেখেনি যে হুমকি ও প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের পরিণতি আছে। যদি আঘাত করো, পাল্টা আঘাত পাবে।”
ইরানের সর্বোচ্চ নেতার সামরিক উপদেষ্টা মোহসেন রেজায়িও সতর্ক করে বলেন, আগ্রাসী পক্ষ ও তাদের সহযোগীদের কঠোর শাস্তি দেওয়া হবে।
পরিস্থিতির উত্তেজনার মধ্যে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস, পাকিস্তান ও কাতার সব পক্ষকে ‘সর্বোচ্চ সংযম’ প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছেন।
বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) পরিবহনের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে হওয়ায় নতুন এই সংঘাতের প্রভাব জ্বালানি বাজারেও পড়েছে। ট্রাম্প যুদ্ধবিরতির সমাপ্তি ঘোষণা করার পর আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম প্রায় ৮ শতাংশ বেড়ে যায়।
এদিকে আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থা (আইএমও) জানিয়েছে, চলমান উত্তেজনার কারণে হরমুজ অঞ্চলে প্রায় ৬ হাজার নাবিক এখনো আটকা পড়ে আছেন।
সূত্র: আরব নিউজ
0 মন্তব্য