দেশের সরকারি ক্রয় ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও প্রযুক্তিনির্ভর করতে সব সরকারি ক্রয় কার্যক্রম পর্যায়ক্রমে বাধ্যতামূলকভাবে ইলেকট্রনিক গভর্নমেন্ট প্রকিউরমেন্ট (ই-জিপি) পদ্ধতির আওতায় আনার ঘোষণা দিয়েছেন পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকী।
তিনি বলেছেন, উন্নয়ন প্রকল্পের গুণগত মান নিশ্চিত, সরকারি অর্থের অপচয় রোধ এবং সময়মতো প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য একটি শক্তিশালী ও পূর্ণাঙ্গ ই-জিপি ব্যবস্থা গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবি।
গত মঙ্গলবার (৭ জুলাই) রাজধানীতে অনুষ্ঠিত "ই-জিপি পদ্ধতির উন্নয়ন, বাধ্যতামূলক ই-জিপি বাস্তবায়ন এবং বাংলাদেশ পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অথরিটি (বিপিপিএ)-এর সক্ষমতা বৃদ্ধি" শীর্ষক দুটি অংশীজন পরামর্শ কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকারের উন্নয়ন ব্যয়ের একটি বড় অংশ সরকারি ক্রয়ের মাধ্যমে বাস্তবায়িত হয়।
ফলে, সরকারি ক্রয় ব্যবস্থার দক্ষতা ও সুশাসনের ওপর উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের সফলতা অনেকাংশে নির্ভরশীল।
তাই ক্রয় প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, প্রতিযোগিতা এবং অর্থের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করতে ই-জিপির কোনো বিকল্প নেই।
তিনি বলেন, "আমরা দেশের সব সরকারি ক্রয়ে বাধ্যতামূলকভাবে ই-জিপি বাস্তবায়ন করতে চাই। এজন্য ই-জিপি ব্যবস্থাকে আরও দক্ষ, নিরাপদ, ব্যবহারকারীবান্ধব এবং অংশীজনদের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করে গড়ে তুলতে হবে।"
জোনায়েদ সাকী আরও বলেন, সরকারের লক্ষ্য শুধু ডিজিটাল পদ্ধতিতে ক্রয় সম্পন্ন করা নয়; বরং এমন একটি আধুনিক সরকারি ক্রয় ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা, যেখানে অনিয়মের সুযোগ কমবে, প্রতিযোগিতা বাড়বে এবং উন্নয়ন প্রকল্প নির্ধারিত সময় ও ব্যয়ের মধ্যে সম্পন্ন হবে।
এ লক্ষ্যে ই-জিপি প্ল্যাটফর্মের ধারাবাহিক উন্নয়ন এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে।
দিনের প্রথম কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয় এনইসি-২ সম্মেলন কক্ষে এবং দ্বিতীয় কর্মশালা শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত বাংলাদেশ পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অথরিটি (বিপিপিএ) ভবনের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়।
বিপিপিএ আয়োজিত এ কর্মশালায় সরকারি বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার প্রধান, প্রকল্প পরিচালক, তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ, সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি, আইসিটি খাতের ব্যবসায়ী সংগঠন এবং অন্যান্য অংশীজন অংশ নেন।
কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন বিপিপিএ-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সচিব) এস. এম. মঈন উদ্দীন আহম্মেদ।
বিশেষ অতিথি ছিলেন সিরাজুন নূর চৌধুরী। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিপিপিএ-এর পরিচালক শাহ ইয়ামিন উল ইসলাম এবং জাতীয় ই-জিপি সিস্টেম উন্নয়নের রোডম্যাপ তুলে ধরেন সিনিয়র সিস্টেম অ্যানালিস্ট মো. মোশাররফ হোসেন।
সভাপতির বক্তব্যে এস. এম. মঈন উদ্দীন আহম্মেদ বলেন, মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা ও অংশীজনদের মতামতের ভিত্তিতে ই-জিপি ব্যবস্থার বিদ্যমান সীমাবদ্ধতা দূর করা হবে। এ জন্য ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ধারাবাহিকভাবে অংশীজন পরামর্শ সভার আয়োজন অব্যাহত থাকবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সিরাজুন নূর চৌধুরী বলেন, শক্তিশালী সরকারি ক্রয় ব্যবস্থার পাশাপাশি উন্নত প্রকল্প পরিকল্পনা ও প্রস্তুতিও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
প্রকল্প প্রণয়নের দুর্বলতা দূর করা গেলে সময়মতো বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা সহজ হবে এবং উন্নয়ন প্রকল্পের গুণগত মানও বাড়বে।
0 মন্তব্য