জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সংশোধনের জন্য গত সাড়ে ছয় বছরে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) ৬৩ লাখ ৭৮ হাজার ৭৩০টি আবেদন জমা পড়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৯৮ শতাংশ আবেদন নিষ্পত্তি করেছে সংস্থাটি। তবে যাচাই-বাছাই শেষে বিভিন্ন কারণে প্রায় ১৩ লাখ আবেদন বাতিল বা প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে।
ইসির জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের প্রস্তুত করা এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ সালের শুরু থেকে চলতি বছরের ২ আগস্ট পর্যন্ত ৬ বছর ৭ মাসে এনআইডি সংশোধনের জন্য মোট ৬৩ লাখ ৭৮ হাজার ৭৩০টি আবেদন জমা পড়ে। এর মধ্যে ৬২ লাখ ৩০ হাজার ৫৯২টি আবেদন নিষ্পত্তি করা হয়েছে।
নিষ্পত্তি হওয়া আবেদনগুলোর মধ্যে ৪০ লাখ ৬১ হাজার ১৪৬টি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে ১২ লাখ ৯৫ হাজার ৪৫৪টি আবেদন বিভিন্ন অসংগতি, প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের ঘাটতি বা যাচাইয়ে তথ্যের অসামঞ্জস্য পাওয়ায় বাতিল করা হয়েছে। বর্তমানে এক লাখ ৪৭ হাজার ৭৭৮টি আবেদন বিভিন্ন পর্যায়ে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা জানান, নাম, জন্মতারিখ, ঠিকানা, পিতা-মাতার নামসহ বিভিন্ন তথ্য সংশোধনের জন্য নাগরিকরা আবেদন করে থাকেন। অধিকাংশ আবেদন উপজেলা পর্যায়েই নিষ্পত্তি হয়। তবে আবেদনের ধরন ও জটিলতার ভিত্তিতে জেলা, আঞ্চলিক অথবা ঢাকার কেন্দ্রীয় কার্যালয়েও এসব আবেদন নিষ্পত্তি করা হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি আবেদন জমা পড়েছে উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার এখতিয়ারভুক্ত ‘ক’ ক্যাটাগরিতে। এ ক্যাটাগরিতে আবেদন হয়েছে ৪১ লাখ ২৭ হাজার ৯৩৭টি, যা মোট আবেদনের প্রায় ৬৫ শতাংশ।
দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১২ লাখ ৪৩ হাজার ৮৪৬টি আবেদন পড়েছে সিনিয়র জেলা বা জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার আওতাধীন ‘খ’ ক্যাটাগরিতে। এছাড়া আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তার ‘গ’ ক্যাটাগরিতে ৬ লাখ ২ হাজার ৭১৭টি, এনআইডি মহাপরিচালকের ‘ঘ’ ক্যাটাগরিতে ১ লাখ ৫৫ হাজার ৪৮৮টি আবেদন জমা হয়েছে।
এ ছাড়া সহকারী উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার ‘ক-১’ ক্যাটাগরিতে ১ লাখ ৩৮ হাজার ৩৭২টি এবং অতিরিক্ত জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার ‘খ-১’ ক্যাটাগরিতে ১ লাখ ১০ হাজার ১০টি আবেদন জমা পড়েছে, যা ছয়টি ক্যাটাগরির মধ্যে সবচেয়ে কম।
স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি) অনুযায়ী এনআইডি সংশোধনের আবেদন ‘ক’, ‘ক-১’, ‘খ’, ‘খ-১’, ‘গ’ ও ‘ঘ’—এই ছয়টি ক্যাটাগরিতে নিষ্পত্তি করা হয়। আবেদনের জটিলতা বিবেচনা করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আবেদন কোন ক্যাটাগরিতে পড়বে তা নির্ধারণ করে।
ইসির জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের পরিচালক (অপারেশনস) মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, চাকরির আবেদন, বিদেশযাত্রা বা অন্যান্য জরুরি প্রয়োজনে অনেক নাগরিক দ্রুত এনআইডি সংশোধনের আবেদন করেন। আবেদনে যৌক্তিক কারণ উল্লেখ থাকলে সেসব আবেদন অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হয়।
এদিকে এনআইডি সংশোধনসংক্রান্ত সেবা আরও সহজ, দ্রুত ও কার্যকর করতে জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের পরিচালক (নিবন্ধন ও প্রবাসী)কে আহ্বায়ক করে চার সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে নির্বাচন কমিশন। কমিশনের আশা, কমিটির সুপারিশ বাস্তবায়িত হলে এনআইডি সেবার মান আরও উন্নত হবে।
ইসির সর্বশেষ হালনাগাদ ভোটার তালিকা অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে মোট ভোটার ১২ কোটি ৮৩ লাখ ২৩ হাজার ২৪০ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৫২ লাখ ১২ হাজার ৭৩১ জন, নারী ভোটার ৬ কোটি ৩১ লাখ ৯ হাজার ২৬৬ জন এবং হিজড়া ভোটার রয়েছেন ১ হাজার ২৪৩ জন।
0 মন্তব্য