অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল আসার দাবি তুলে ফেসবুকে প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও সরকার নিয়ে ‘অশালীন’ ও ‘কুরুচিপূর্ণ’ বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগে আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজের শিক্ষার্থী মো. আব্দুল্লাহ সিফাতকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। এবার তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে কলেজ কর্তৃপক্ষও।
মো. আব্দুল্লাহ সিফাতকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেওয়া হয়েছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে। তাকে কেন কলেজ থেকে বহিষ্কার অথবা ছাড়পত্র দেওয়া হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়েছে শোকজে।
গত ৬ সেপ্টেম্বর আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজের অধ্যক্ষের পক্ষে অধ্যাপক ড. নিলুফা আহসানের সই করা এক নোটিশে এ তথ্য জানানো হয়। নোটিশে শিক্ষার্থী সিফাতকে তিন কর্মদিবসের মধ্যে কলেজ কর্তৃপক্ষকে যথাযথ কারণ জানাতে বলা হয়েছে। নোটিশের অনুলিপি অবগতির জন্য সেনাসদর, জিএস শাখা (শিক্ষা পরিদপ্তর), সদর দপ্তর লজিস্টিকস এরিয়া (শিক্ষা শাখা) এবং কলেজ পরিচালনা পর্ষদের সভাপতির কাছে পাঠানো হয়েছে।
এতে বলা হয়েছে, মো. আব্দুল্লাহ সিফাত (আইডি নং- ৪১০২১০৪৬) আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজের বিবিএ অনার্স (ব্যবস্থাপনা) বিভাগের চতুর্থ বর্ষের (শিক্ষাবর্ষ ২০২১-২০২২) শিক্ষার্থী। গত ৩ সেপ্টেম্বর নিজের বাসার বিদ্যুৎ বিলের অসামঞ্জস্যতা উল্লেখ করে ফেসবুকের মাধ্যমে বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বর্তমান সরকারকে সম্বোধন করে অশালীন ভাষায় কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। বক্তব্যটি ফেসবুক পেজে ভাইরাল হয় বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।
নোটিশে আরও বলা হয়, আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজ সেনাবাহিনী নিয়ন্ত্রিত একটি ঐতিহ্যবাহী, স্বনামধন্য ও সুশৃঙ্খল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। শিক্ষা-শৃঙ্খলা-নৈতিকতা মূলমন্ত্রের আলোকে শিক্ষার্থীদের দেশের জন্য সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তোলাই কলেজটির মূল লক্ষ্য। কোনো শিক্ষার্থী শৃঙ্খলাবিরোধী কাজে জড়িত হলে নীতিমালা অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রয়েছে।
একজন শিক্ষার্থীর কাছ থেকে এ ধরনের কর্মকাণ্ড অশোভনীয়, অনভিপ্রেত, অনাকাঙ্ক্ষিত এবং অপরাধ হিসেবে গণ্য। এ ঘটনায় কলেজের অর্জিত সুনাম ক্ষুণ্ন হওয়ার পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, শিক্ষক-শিক্ষিকামণ্ডলী এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বিব্রত হয়েছেন।
নোটিশে আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজের স্থায়ী পরিচালনা নীতিমালার অধ্যায় ৯-এর অনুচ্ছেদ ৯.৮-এর ক্রমিক ৮-এর উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে আপত্তিকর মন্তব্য করলে অপরাধের গুরুত্ব বিবেচনায় কলেজ থেকে বহিষ্কার অথবা ছাড়পত্র দেওয়ার বিধান রয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়।
এ অবস্থায় মো. আব্দুল্লাহ সিফাতের বিরুদ্ধে উল্লিখিত কর্মকাণ্ডের জন্য কেন তাকে কলেজ থেকে বহিষ্কার অথবা ছাড়পত্র দেওয়া হবে না, তার যথাযথ কারণ আগামী তিন কর্মদিবসের মধ্যে কলেজ কর্তৃপক্ষকে জানাতে বলা হয়েছে।
0 মন্তব্য