অনিয়ম ও জালিয়াতির অভিযোগের তদন্তের মধ্যে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালকের পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুল। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) তিনি পদত্যাগ করেছেন বলে রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, ডব্লিউএইচও এবং বাংলাদেশের দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চলমান তদন্তের মুখে সংস্থাটির মহাপরিচালক তেদ্রোস আধানম গেব্রিয়েসাসের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন সায়মা ওয়াজেদ। তার পদত্যাগ তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হয়েছে।
রয়টার্সের হাতে আসা পুতুলের পদত্যাগপত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, বুধবারই তিনি পদত্যাগের ঘোষণা দেন।
এর আগে গত ২০ আগস্ট তাকে অনির্দিষ্টকালের ছুটিতে পাঠানোর সিদ্ধান্তের বিষয়ে স্বাধীন তদন্তের দাবি জানিয়েছিলেন সায়মা ওয়াজেদ।
রয়টার্সের সূত্র বলছে, আগামী মাসে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের নতুন আঞ্চলিক পরিচালক নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু করবে ডব্লিউএইচও। তবে এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে সায়মা ওয়াজেদ ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের সদস্যদের ওপর এর যে প্রভাব পড়েছে, সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের পদত্যাগ তার সর্বশেষ উদাহরণগুলোর একটি। শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠ অনেক মিত্র বর্তমানে দুর্নীতির মামলার আসামি অথবা তার মতোই স্বেচ্ছানির্বাসনে রয়েছেন।
যেভাবে WHO’র আঞ্চলিক পরিচালক হন পুতুল
শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে ২০২৩ সালের নভেম্বরে ভারতের নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের আঞ্চলিক কমিটির ৭৬তম অধিবেশনে সায়মা ওয়াজেদ পুতুল আঞ্চলিক পরিচালক নির্বাচিত হন।
এরপর ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে পাঁচ বছরের মেয়াদে তিনি ওই দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
তবে একই বছরের আগস্টে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে ক্ষমতাচ্যুত হন তার মা শেখ হাসিনা। পরে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে শেখ হাসিনার পাশাপাশি সায়মা ওয়াজেদকেও কয়েকটি দুর্নীতি মামলায় আসামি করা হয়।
এর চার মাস পর, ২০২৫ সালের ১১ জুলাই সায়মা ওয়াজেদকে অনির্দিষ্টকালের জন্য ছুটিতে পাঠায় ডব্লিউএইচও। সে সময় একজনকে ভারপ্রাপ্ত আঞ্চলিক পরিচালকের দায়িত্ব দেওয়া হলেও ইতোমধ্যে তার মেয়াদ শেষ হয়েছে।
এদিকে, ২০২৫ সালের নভেম্বরে প্লট দুর্নীতির অভিযোগে দায়ের করা একটি মামলায় ঢাকার একটি আদালত সায়মা ওয়াজেদকে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেন।
এর আগে তাকে গ্রেপ্তারে ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিশ জারিরও আদেশ দিয়েছিলেন ঢাকার আদালত।
0 মন্তব্য