রিয়ালিটি চেক! শব্দজোড়া কি চেনা চেনা মনে হচ্ছে? মনে হওয়ারই কথা। বিশেষ করে বাংলাদেশ দলের খেলার অনুসারীদের কাছে এটি বেশ পরিচিত।
বাজেভাবে হারলেই ক্রিকেটারদের মুখে সহজেই শোনা যায় কথাটি। যেমনটা পরশু রাতে আবুধাবিতে জিম্বাবুয়ের কাছে বিধ্বস্ত হওয়ার পর তাসকিন আহমেদের কণ্ঠেও শোনা গেল। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, একটা দলের আসলে কতবার ‘রিয়ালিটি চেক’ হয়?
খেলাধুলায় রিয়ালিটি চেক বলতে বোঝায়, একটি দলের দুর্বলতাগুলো সামনে চলে আসা। কোথায় কোথায় উন্নতি করতে হবে, তা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেওয়া আরকি। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে যেমন বেরিয়ে এসেছে বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ের কঙ্কালসার চেহারা। কিন্তু এটি কি নতুন কিছু? রান তাড়ায় তো বটেই, এমনকি পুরো ৫০ ওভার ব্যাটিং করাও যেন বড়সড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে এই দলের জন্য।
গত বছর এই একই সময়ে আবুধাবির শেখ জায়েদ স্টেডিয়ামে আফগানিস্তানের বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে ধবলধোলাই হয়েছিল বাংলাদেশ। কোনো ম্যাচেই ৫০ ওভার ব্যাটিং করতে পারেননি ব্যাটাররা।
জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে পরশু রাতে ২৭২ রানের লক্ষ্য তাড়ায় বাংলাদেশ ব্যাটিং করতে পেরেছে মোটে ৩৩.৪ ওভার। ব্যাটিংয়ের এই ভরাডুবির প্রভাব পড়েছে ফলেও। ২০২৩ বিশ্বকাপের পর থেকে বিদেশের মাটিতে ২১টি ওয়ানডে খেলেছে বাংলাদেশ। জয় মাত্র ৪টিতে, হার ১৭ ম্যাচে।
কিন্তু প্রসঙ্গ যখন রিয়ালিটি চেক, এই কথাই তো শোনা গিয়েছিল গত জুলাইয়ে জিম্বাবুয়ের কাছে সিরিজ হারের পরও। একই প্রতিপক্ষের কাছে আবারও একই সমস্যায় পড়ার পর স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে, ব্যর্থতা আড়াল করতে আর কত অজুহাত?
তাসকিনের কথাগুলো একটু শুনে আসা যাক, ‘এটা একটা রিয়ালিটি চেক আমাদের জন্য যে কোন কোন জায়গাগুলোতে উন্নতি করতে হবে। এটা তো একক খেলা না, মানে এখানে দু-একটি ব্যক্তিগত সাফল্য আসলে কাজে আসে না। যেহেতু দলগত খেলা, দল হিসেবেই আমাদের উন্নতি করতে হবে।’
কথাগুলো খুবই সরল, একই সঙ্গে পরিচিতও। তাহলে সেগুলো কাজে আসছে না কেন? ব্যাটাররাই বা পারছেন না কেন নিজেদের ভুল শুধরে নিতে? তাসকিন সেটিরও একটা ব্যাখ্যা দিয়েছেন, ‘আমাদের আসলে পরিস্থিতি বুঝে খেলার ঘাটতিটাই একটু বেশি। কারণ স্কিল কিন্তু সবারই আছে। সব ব্যাটারই প্রমাণ করেছে যে তারা ভালো ব্যাটিং করতে পারে। কিন্তু মাঝেমধ্যে দেখবেন, চাপে পড়লে আমরা খুব দ্রুত ভেঙে পড়ি।’
জিম্বাবুয়ের বিপক্ষেই যেমন ২৭২ রানের লক্ষ্য তাড়ায় ওপেনিংয়ে ভালো একটি জুটির পর দ্রুত তিনটি উইকেট হারায় বাংলাদেশ। সেখান থেকে আর ম্যাচ বের করতে পারেননি তাওহিদ হৃদয়, সাইফ হাসানরা। উল্টো উইকেটে থিতু হয়েও আউট হয়ে ফিরেছেন তারা।
অথচ দ্রুত ৩ উইকেট হারানোর পর চতুর্থ উইকেটে ১৫০ রানের জুটিতে ম্যাচের চিত্র বদলে দেন ব্রেন্ডন টেইলর ও ক্রেইগ আরভিন। চাপের মুখে দাঁড়িয়ে কিভাবে ম্যাচের হাল ধরতে হয়, তারই উদাহরণ হয়ে থাকল এই জুটি।
বাংলাদেশের ব্যাটাররা দিনের পর দিন এই কাজটিই করতে ব্যর্থ হচ্ছেন। কখনো অতিরিক্ত রক্ষণাত্মক, কখনো আবার অতি আক্রমণাত্মক হতে গিয়ে ধসে পড়ছে ব্যাটিং অর্ডার। প্রতিবার ব্যর্থতার পর যার নাম দেওয়া হচ্ছে ‘রিয়ালিটি চেক’। কিন্তু তা আর কতবার?
0 মন্তব্য