ক্ষমতা পরিবর্তনের পর সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ৷ হাসিনা সরকারের আমলে বঞ্চনার শিকার হওয়া প্রশাসন ও পুলিশ ক্যাডারের কর্মকর্তাদের বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। ইতোমধ্যে প্রশাসন ক্যাডারে পদোন্নতির জট কিছুটা কাটলেও পুলিশ ক্যাডারে এখনো সেই গতি দেখা যাচ্ছে না। রাষ্ট্র পরিচালনায় প্রশাসনের পাশাপাশি পুলিশের ভূমিকাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, বিশেষ করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বাহিনীর মনোবল শক্তিশালী রাখা জরুরি। যদিও প্রশাসন ক্যাডারে শূন্য পদ না থাকলেও নিয়মিত পদোন্নতির সুযোগ থাকে, পুলিশের ক্ষেত্রে সেই সুবিধা সীমিত। ফলে দীর্ঘদিন ধরে বৈষম্যের অভিযোগ রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, চলতি মাসের মধ্যেই বিসিএস ২১তম ব্যাচের কর্মকর্তাদের মধ্য থেকে উপমহাপুলিশ পরিদর্শক (ডিআইজি) পদে পদোন্নতি দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এ প্রক্রিয়া নিয়ে কাজ চলছে এবং অন্তত আটজন কর্মকর্তাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অতীতে মেধা ও যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও যারা বঞ্চিত হয়েছেন, তাদেরও বিবেচনায় আনা হচ্ছে।
অন্যদিকে, ২০২৪ সালের জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানের পর পুলিশের মনোবল পুরোপুরি ফিরে আসেনি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। সরকার বিভিন্ন উদ্যোগের কথা বললেও মাঠপর্যায়ে এখনো কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন দৃশ্যমান নয়। পূর্ববর্তী সময়ে বিতর্কিত নির্দেশনা বাস্তবায়নে জড়িত কিছু কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হলেও অনেকেই এখনো বিভিন্ন দপ্তরে বহাল আছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞ ও সাবেক অতিরিক্ত সচিব নজরুল ইসলাম মনে করেন, কোনো ক্যাডারেই বৈষম্য থাকা উচিত নয়। তার মতে, পুলিশের হারানো আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে আনতে হলে সব ধরনের বঞ্চনা দূর করতে হবে।
পুলিশের অভ্যন্তরে শৃঙ্খলা ও নেতৃত্ব নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। বিশেষ করে এসআই, কনস্টেবল ও ইন্সপেক্টর পর্যায়ের সদস্যদের কার্যক্রমেই আইনশৃঙ্খলার বাস্তব চিত্র প্রতিফলিত হয়। তবে অতীতে রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে নিয়োগপ্রাপ্ত অনেক সদস্য এখনো বিভিন্ন ইউনিটে কর্মরত থাকায় কাঙ্ক্ষিত পেশাদারিত্বে ঘাটতি দেখা যাচ্ছে।
তুলনামূলকভাবে দেখা যায়, প্রশাসন ক্যাডারের ১৫ ও ১৭তম ব্যাচের কর্মকর্তারা ইতোমধ্যে সচিব পদে উন্নীত হয়েছেন, ২৪তম ব্যাচের কর্মকর্তারা যুগ্ম সচিব এবং ২০তম ব্যাচের কর্মকর্তারা অতিরিক্ত সচিব হয়েছেন। কিন্তু পুলিশের ২১তম ব্যাচের কর্মকর্তারা এখনো ডিআইজি পদে উন্নীত হতে পারেননি, যা নিয়ে তাদের মধ্যে হতাশা রয়েছে।
এছাড়া, জুলাই অভ্যুত্থানের সময় তৎকালীন সরকারের ঘনিষ্ঠ কিছু পুলিশ কর্মকর্তা দেশত্যাগ বা আত্মগোপনে যাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। তাদের মধ্যে কয়েকজনের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, প্রকৃত মেধাবী ও বঞ্চিত কর্মকর্তাদের সামনে এনে দায়িত্ব দেওয়া হলে বাহিনীতে ভারসাম্য ফিরবে।
পুলিশ ক্যাডারের কর্মকর্তাদের অভিযোগ, কিছু প্রভাবশালী মহলের কারণে পদোন্নতি ও গুরুত্বপূর্ণ পদায়নে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে। তবে ইতোমধ্যে বিষয়টি সরকারের উচ্চপর্যায়ে গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানা গেছে।
উল্লেখ্য, গত বছরের ২৬ নভেম্বর ৩৩ জন কর্মকর্তাকে ডিআইজি পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়, যাদের বেশিরভাগই ২০তম ব্যাচের ছিলেন। পাশাপাশি সম্প্রতি বিভিন্ন সময়ে একাধিক ডিআইজি ও অতিরিক্ত ডিআইজিকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর সিদ্ধান্তও নিয়েছে সরকার।
0 মন্তব্য