সম্প্রতি কন্যাসন্তানের মা হয়েছেন হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট। গত ১ মে তাদের পরিবারে নতুন সদস্য ‘ভিভিয়ান’ আসার খবরটি তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) আনন্দের সাথে শেয়ার করেন। কিন্তু সেই আনন্দের মুহূর্তে ভাগ বসিয়েছে ইরান। গত ফেব্রুয়ারিতে ইরানি স্কুলে মার্কিন বাহিনীর ভুল হামলায় ১৬৮ শিশুর মৃত্যুর ঘটনা মনে করিয়ে দিয়ে লেভিটকে কঠোর বার্তা দিয়েছে আর্মেনিয়ায় নিযুক্ত ইরানি দূতাবাস।
ইরানি দূতাবাসের সেই বিতর্কিত ও কড়া প্রতিক্রিয়া
লেভিটের পোস্টটি শেয়ার করে ইরানি দূতাবাস লেখে, “অভিনন্দন লেভিট! শিশুরা নিষ্পাপ এবং ভালোবাসার যোগ্য। কিন্তু মিনাবের সেই স্কুলে আপনার বস যে ১৬৮ শিশুকে হত্যা করেছিলেন এবং আপনি যা ন্যায্য বলে সমর্থন করেছিলেন, তারাও শিশু ছিল। যখন আপনি নিজের শিশুকে চুমু দেবেন, তখন সেই নিহত শিশুদের মায়েদের কথাও একটু ভাববেন।”
এই বার্তাটি মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায় এবং আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় তোলে।
মিনাব স্কুল ট্র্যাজেডির প্রেক্ষাপট
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের মিনাব শহরে এক ভয়াবহ হামলার ঘটনা ঘটে। মার্কিন বাহিনীর দাবি অনুযায়ী, তাদের লক্ষ্য ছিল একটি ইরানি সামরিক ঘাঁটি। কিন্তু পুরোনো গোয়েন্দা তথ্যের ওপর ভিত্তি করে চালানো সেই হামলাটি ভুলবশত লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে আঘাত হানে ‘শাজারাহ তাইয়েবাহ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে’। এতে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকসহ মোট ১৬৮ জন প্রাণ হারান।
পরবর্তীতে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড স্বীকার করে যে, ডিফেন্স ইন্টেলিজেন্স এজেন্সির দেওয়া তথ্যে ভুল থাকায় এই বিপর্যয় ঘটেছিল।
তদন্তের ধীরগতি ও মানবাধিকার সংস্থার উদ্বেগ
ঘটনার পর দুই মাস পেরিয়ে গেলেও মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর (পেন্টাগন) এখন পর্যন্ত কোনো বিস্তারিত তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করেনি। মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ ঘটনাটিকে ‘তদন্তাধীন’ বলে এড়িয়ে গেছেন।
এদিকে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এই ঘটনাকে আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের চরম লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেছে। সংস্থাটির মতে, একটি বেসামরিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এ ধরনের হামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
কূটনৈতিক উত্তেজনা
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ক্যারোলিন লেভিটের ব্যক্তিগত জীবনের একটি খুশির সংবাদকে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে টেনে আনা ইরানের পক্ষ থেকে এক ধরণের ‘মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ’। এর মাধ্যমে তারা ওয়াশিংটনকে শিশুদের জীবনের নিরাপত্তা ও যুদ্ধের নৈতিকতা নিয়ে একটি জোরালো নৈতিক প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে।
0 মন্তব্য