ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত নতুন জ্বালানি চুক্তির পক্ষে অবস্থান নিয়ে বলেছেন, ওয়াশিংটন দেশটির তেল খাতে বড় ভূমিকা পেলেও ভেনেজুয়েলা তার প্রাকৃতিক সম্পদের মালিকানা ও সার্বভৌমত্ব বজায় রাখবে।
রদ্রিগেজ এই ২৫ বছরের চুক্তিকে “ঐতিহাসিক” আখ্যা দিয়ে বলেন, এটি ভেনেজুয়েলার দীর্ঘদিনের সংকটে থাকা জ্বালানি খাতকে পুনরুজ্জীবিত করতে এবং সরকারের রাজস্ব আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াতে সহায়তা করবে।
চুক্তির আওতায় ভেনেজুয়েলার ১৭টি কৌশলগত তেলক্ষেত্র উন্নয়ন করা হবে। প্রাথমিকভাবে দৈনিক ১৫ লাখ ব্যারেলের বেশি তেল উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
২০৯ বিলিয়ন ডলার রাজস্বের আশা
রদ্রিগেজ জানান, প্রতি ব্যারেল তেলের দাম ৬৫ ডলার ধরে এই চুক্তির মাধ্যমে ভেনেজুয়েলা প্রায় ২০৯ বিলিয়ন ডলার রাজস্ব আয় করতে পারে।
চুক্তি অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে বিক্রি হওয়া প্রতি ব্যারেল তেল থেকে প্রায় ১৯ ডলার সরাসরি কারাকাসের রাষ্ট্রীয় কোষাগারে যাবে। তিনি বলেন, বর্তমান উৎপাদন লক্ষ্য কেবল শুরু; ভবিষ্যতে আরও আটটি নতুন তেল ব্লক উন্নয়নের পরিকল্পনাও রয়েছে।
‘তেলের মালিকানা থাকবে ভেনেজুয়েলারই’
চুক্তির সমালোচনার জবাবে রদ্রিগেজ বলেন, বিদেশি বিনিয়োগ, প্রযুক্তি ও দক্ষতা ব্যবহার করে ভেনেজুয়েলা তার জ্বালানি শিল্প পুনর্গঠন করবে, কিন্তু প্রাকৃতিক সম্পদের মালিকানা রাষ্ট্রের কাছেই থাকবে।
টেলিভিশনে দেওয়া ভাষণে তিনি বলেন, “এই ২৫ বছরের দ্বিপক্ষীয় প্রকল্পে ১৭টি কৌশলগত তেলক্ষেত্র উন্নয়নের পরিকল্পনা রয়েছে।”
বিশ্বের সবচেয়ে বড় প্রমাণিত তেলের মজুত ভেনেজুয়েলার থাকলেও বর্তমানে দেশটি দৈনিক প্রায় ১২ লাখ ৫০ হাজার ব্যারেল তেল উৎপাদন করছে, যা তাদের সম্ভাব্য উৎপাদনের তুলনায় অনেক কম।
ভেনেজুয়েলার তেল খাতে বাড়ছে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা
এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দেন, বেসরকারি কোম্পানির সঙ্গে অংশীদারত্বের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার বিশাল তেল খাতে আংশিক নিয়ন্ত্রণ নেবে।
ট্রাম্পের দাবি, এই ব্যবস্থার ফলে যুক্তরাষ্ট্র ৬৫ বিলিয়ন ব্যারেলের বেশি প্রমাণিত তেলের মজুতের ওপর সংখ্যাগরিষ্ঠ নিয়ন্ত্রণ পাবে। তবে চুক্তির বাস্তবায়ন পদ্ধতি নিয়ে তিনি বিস্তারিত তথ্য দেননি।
আগামী সপ্তাহে ভেনেজুয়েলার কর্মকর্তারা যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি প্রতিষ্ঠানসহ একাধিক কোম্পানির সঙ্গে তেল অনুসন্ধান ও উৎপাদনের অধিকারসংক্রান্ত আরও চুক্তি সই করবেন বলে জানা গেছে। মার্কিন জ্বালানি প্রতিষ্ঠান শেভরন ও নতুন জ্বালানি কাঠামোর আওতায় চূড়ান্ত চুক্তি করতে পারে।
0 মন্তব্য