ঝিনাইদহে ফসলের মাঠে সেচ সরবরাহে নবদিগন্তের সূচনা করেছে সৌরবিদ্যুৎ চালিত সেচ পাম্প। এতে একদিকে যেমন জ্বালানি তেল ও বিদ্যুতের ওপর চাপ কমেছে, অন্যদিকে দিনের বেলা নিরবচ্ছিন্ন সেচের মাধ্যমে স্বল্প খরচে ফল-ফসল উৎপাদন করতে পারছে কৃষক। এতে কৃষকের খরচ যেমন কমেছে, তেমনি বেড়েছে উৎপাদন। ফলে দিন দিন সৌরবিদ্যুৎ চালিত সেচ পাম্পের দিকে ঝুঁকে পড়ছেন কৃষকরা। কৃষি বিভাগ থেকেও সৌরবিদ্যুৎ চালিত সেচ পাম্প সম্প্রসারণে হাতে নিয়েছে নানা পরিকল্পনা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঝিনাইদহ সদর, কোটচাঁদপুর ও মহেশপুর উপজেলায় ৩৬টি সৌরবিদ্যুৎ চালিত সেচ পাম্প সচল রয়েছে। এসব পাম্প কয়েক বছর আগে স্থাপন করা হয়। এরমধ্যে সদর উপজেলায় ৩টি, কোটচাঁদপুরে ১টি এবং মহেশপুরে ৩২টি সৌরবিদ্যুৎ চালিত সেচ পাম্প রয়েছে। এছাড়া জেলায় ছোট বড় মিলিয়ে মোট ৮৬টি সৌরবিদ্যুৎ চালিত সেচ পাম্প রয়েছে বলে জানা গেছে। পর্যায়ক্রমে জেলার বিভিন্ন তিন ফসলি ও চার ফসলি জমিগুলোতে সৌরবিদ্যুৎ চালিত সেচ পাম্প স্থাপনের কার্যক্রম এগিয়ে নেয়া হচ্ছে বলে জেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে।
জানা গেছে, বিশ্বব্যাংকের অর্থায়ন এবং পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনের (পিকেএসএফ) কারিগরি সহায়তায় রুরাল রিকনস্ট্রাকশন ফাউন্ডেশনের (আরআরএফ) বাস্তবায়নাধীন ‘স্মার্ট’ প্রকল্পের আওতায় এরআগে এসব সৌরবিদ্যুৎ চালিত সেচ পাম্প স্থাপন করা হয়। কোথাও কোথাও এখনো প্রকল্পটি চলমান রয়েছে।
সৌরবিদ্যুৎ চালিত সেচ পাম্পের সুবিধাভোগী সদর উপজেলার মধুহাটি এলাকার কৃষক জাহিদুল ইসলাম বলেন, ডিজেল চালিত সেচ পাম্প অনেক ব্যয়বহুল। বিদ্যুত চালিত পাম্পেও খরচ অনেক। এছাড়া লোডশেডিংয়ের কারণে বিদ্যুত চালিত পাম্প থেকে সব সময় নিরবচ্ছিন্ন সেচ পাওয়া যায় না। যে কারণে আমরা সৌরবিদ্যুৎ চালিত পাম্পের মাধ্যমে জমিতে সেচ দিয়ে থাকি। এতে খরচ অর্ধেকে নেমে এসেছে।
কোটচাঁদপুর উপজেলার কুশনা এলাকার কৃষক শামীম হোসেন বলেন, কোথাও কোথাও কৃষকরা সমবায় ভিত্তিতে এই পাম্প বসিয়েছে। আবার কেউ কেউ নিজ উদ্যোগে সৌরবিদ্যুত চালিত সেচ পাম্প স্থাপন করেছেন।
এই পাম্পের মাধ্যমে কৃষকরা নিজের জমিতে সেচ দেয়ার পাশাপাশি অন্যের জমিতে সেচের পানি সরবরাহ করে বাড়তি অর্থ উপার্জন করতে পারছেন।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক কৃষিবিদ মো. কামরুজ্জামান জানান, বর্তমানে জেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ৮৬টি সৌরবিদ্যুত চালিত সেচ পাম্প সচল রয়েছে। এসব পাম্পের মাধ্যমে জেলার মোট ৬৫৪ হেক্টর জমিতে সেচ সরবরাহ করছেন কৃষকরা।
তিনি বলেন, সরকার সৌরশক্তিকে কাজে লাগিয়ে কৃষিকাজের সেচ আরও বেগবান করার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে।
আমরাও মাঠ পর্যায়ে তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ শুরু করেছি। তিন ফসলি ও চার ফসলি জমিগুলোকে সৌরবিদ্যুত চালিত সেচ ব্যবস্থার আওতায় আনতে পারলে কৃষি উৎপাদনে সেচ খরচ অনেক কমে যাবে। কৃষকরাও উপকৃত হবে। বিদ্যুৎ, জ্বালানি তেলের ওপর বাড়তি চাপ কমবে।
0 মন্তব্য