ম্যাকাই টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার পেসার মিচেল স্টার্কের বিধ্বংসী বোলিংয়ে মাত্র ৬৪ রানেই গুটিয়ে গেছে বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস। টেস্ট ক্রিকেটে এটি বাংলাদেশের চতুর্থ সর্বনিম্ন দলীয় সংগ্রহ।
লাঞ্চ বিরতিতে ৬ উইকেটে ৩৫ রান নিয়ে দ্বিতীয় সেশনে ব্যাটিংয়ে নামে বাংলাদেশ। তখন শেষ স্বীকৃত ব্যাটার হিসেবে উইকেটে ছিলেন মেহেদী হাসান মিরাজ। তবে বিরতি থেকে ফিরে ব্যক্তিগত ১১ রানের সঙ্গে আর কোনো রান যোগ করতে পারেননি তিনি। প্যাট কামিন্সের বলে থার্ড স্লিপে বিউ ওয়েবস্টারের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন মিরাজ।
এরপর জশ হ্যাজলউডের বলে ১০ রানে হাসান মাহমুদ এবং কামিন্সের বলে মাত্র ১ রানে তাসকিন আহমেদ আউট হলে ৬০ রানের আগেই বাংলাদেশের নয় উইকেট পড়ে যায়।
শেষ উইকেটে তাইজুল ইসলাম ও শরীফুল ইসলাম মিলে দলকে আরও বড় লজ্জা থেকে বাঁচান। দুজন মিলে ২৫ রানের জুটি গড়েন, যা বাংলাদেশের ইনিংসে সর্বোচ্চ। শরীফুল ১৪ রানে আউট হলেও তাইজুল ১১ রানে অপরাজিত থাকেন। শেষ পর্যন্ত ৬৪ রানেই থামে বাংলাদেশের ইনিংস।
এর আগে প্রথম সেশনেই বাংলাদেশের ব্যাটিং ধসের শুরু। ম্যাকাইয়ে নিজের টেস্ট অভিষেকে আগুন ঝরানো বোলিং করেন মিচেল স্টার্ক। মাত্র ২১ রানেই বাংলাদেশের ৬ ব্যাটারকে সাজঘরে ফেরান তিনি।
ইনিংসের প্রথম বলেই সাদমান ইসলামকে ক্যামেরন গ্রিনের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরান স্টার্ক। পরের ওভারের প্রথম দুই বলে তানজিদ হাসান তামিম ও নাজমুল হোসেন শান্তকে শূন্য রানে আউট করে হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনা জাগান অজি পেসার।
পরে মমিনুল হককে ৯ রানে এবং লিটন দাসকে শূন্য রানে আউট করে নিজের পাঁচ উইকেট পূর্ণ করেন স্টার্ক। এরপর শরীফুল ইসলামকে ফেরানোর মাধ্যমে ইনিংসে ছয় উইকেট শিকার করেন তিনি।
মেহেদী হাসান মিরাজের সঙ্গে ধস সামলানোর চেষ্টা করেছিলেন মুশফিকুর রহিম। তবে ৪২ বল মোকাবিলা করে মাত্র ৫ রান করা অভিজ্ঞ এই ব্যাটার প্যাট কামিন্সের বলে বোল্ড হয়ে ফেরেন।
স্টার্ক মাত্র ২২ বল খরচ করে পাঁচ উইকেট পূর্ণ করেন। বলের হিসাবে টেস্টে দ্রুততম ফাইফারের তালিকায় এটি তার পঞ্চম সেরা বোলিং। তবে এই তালিকার দ্রুততম পাঁচ উইকেটও স্টার্কেরই—গত বছর ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে মাত্র ১৫ বলে পাঁচ উইকেট নিয়েছিলেন তিনি।
বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসে সর্বনিম্ন দলীয় সংগ্রহ ৪৩ রান, ২০১৮ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে। এবার ৬৪ রানে থামায় সেই বিব্রতকর রেকর্ড থেকে রক্ষা পেল বাংলাদেশ।
0 মন্তব্য