বরগুনার তালতলীতে অভিযান চালিয়ে একটি বিদেশি পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন ও চার রাউন্ড গুলি উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে অবৈধ অস্ত্র আইনে মামলা করা হয়েছে।
বরগুনা পুলিশ লাইন্সের মিলনায়তনে জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান জেলা পুলিশ সুপার মো. কুদরত-ই-খুদা পিপিএম (সেবা)।
পুলিশ সুপার বলেন, বরগুনা জেলায় অপরাধ দমন, চুরি-ডাকাতি প্রতিরোধ, কিশোর গ্যাং নিয়ন্ত্রণ, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং মাদকবিরোধী অভিযানে জেলা পুলিশ দিনরাত কাজ করে যাচ্ছে।
পুলিশ জানায়, গত ১৮ আগস্ট বিকেল ৩টার দিকে তালতলী উপজেলা বিএনপির দুই পক্ষ একই স্থানে পৃথক বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশের আয়োজন করে। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ও সংঘর্ষের আশঙ্কা দেখা দিলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে তালতলী থানা এলাকায় পুলিশের একাধিক দল মোতায়েন করা হয়।
এর মধ্যে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ জানতে পারে, সমাবেশকে কেন্দ্র করে বরগুনার বাইরে থেকে আগ্নেয়াস্ত্র ও দেশীয় অস্ত্রসহ কিছু বহিরাগত এলাকায় প্রবেশ করেছে।
এই তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ সুপার মো. কুদরত-ই-খুদার নির্দেশনায় এবং স্থানীয়দের তথ্য ও সহযোগিতায় ১৯ আগস্ট বিকেল ৪টার দিকে তালতলী থানার গাবতলী গ্রামে অভিযান চালায় পুলিশ। গ্রামটির রিয়াজ কাজীর মালিকানাধীন একটি ভাড়া বাসায় অভিযান চালিয়ে লিমন নামে এক ভাড়াটিয়ার হেফাজতে থাকা খাটের তোষকের নিচ থেকে শপিং ব্যাগে মোড়ানো অবস্থায় একটি বিদেশি পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন ও চার রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়।
অভিযানের সময় বাসায় অবস্থানরত পাঁচজনকে আটক করে পুলিশ। পরে তাদের বিরুদ্ধে অবৈধ অস্ত্র আইনে মামলা করা হয়েছে।
আটক ব্যক্তিরা হলেন—তালতলীর আংগারপাড়া এলাকার লিটন সিকদারের ছেলে লিমন (২৮), পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার চাকা মাইয়া এলাকার সঞ্জয় মজুমদারের ছেলে অনিক মজুমদার (২৫), বরগুনা সদর উপজেলার কেওড়াবুনিয়া এলাকার মো. শাহ আলমের ছেলে মো. জামাল (২৭), নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার কাঠালতলী এলাকার আনোয়ার খানের ছেলে জিহাদ (৩৫) এবং বরগুনা সদর উপজেলার আমড়াঝুড়ি এলাকার মুসলেম মোল্লার ছেলে হৃদয় (২৪)।
প্রেস ব্রিফিংয়ে পুলিশ বিভাগের অন্যান্য কর্মকর্তার পাশাপাশি বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
0 মন্তব্য