ইউরোপজুড়ে তীব্র গ্রীষ্মকালীন তাপপ্রবাহের মধ্যে স্পেন ও ফ্রান্সে ভয়াবহ দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে। আবহাওয়াবিদরা সতর্ক করে বলেছেন, আগামী কয়েক দিন দুই দেশেই নতুন দাবানলের ঝুঁকি অত্যন্ত বেশি থাকবে।
স্পেনের জাতীয় আবহাওয়া সংস্থা(এইএমইটি)জানিয়েছে, দেশটির মূল ভূখণ্ডের অধিকাংশ এলাকা এবং বালিয়ারিক দ্বীপপুঞ্জে দাবানলের ঝুঁকি ‘অত্যন্ত বেশি’ থেকে ‘চরম’ পর্যায়ে পৌঁছেছে।
মধ্য স্পেনের গুয়াদালাহারা অঞ্চলে ভয়াবহ দাবানলে ইতোমধ্যে ৩২ হাজার হেক্টরেরও বেশি বন ও ভূমি পুড়ে গেছে, যা দেশটির ইতিহাসে অন্যতম বড় দাবানল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। রাজধানী মাদ্রিদ থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার উত্তরের এই আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে দমকলকর্মীরা দিন-রাত কাজ করছেন।
গত দুই সপ্তাহেরও কম সময় আগে দক্ষিণ স্পেনের আরেকটি দাবানলে ১৩ জন নিহত হন, যাদের মধ্যে কয়েকজন বিদেশিও ছিলেন।
বুধবার ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করে স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে জাতীয় ঐক্যের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “প্রতি বছরই আমরা স্পষ্টভাবে দেখছি, জলবায়ু পরিবর্তন মানুষের জীবন কেড়ে নিচ্ছে এবং সম্পদ ধ্বংস করছে। এটি রাজনীতি নয়, এটি বিজ্ঞান ও বাস্তবতা।”
আবহাওয়াবিদদের মতে, শুষ্ক বজ্রপাত, সাহারা মরুভূমি থেকে ধুলাবালি এবং পশ্চিমা শুষ্ক বাতাসের কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলের কোথাও কোথাও তাপমাত্রা ৪২ থেকে ৪৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত পৌঁছানোর আশঙ্কা রয়েছে।
এদিকে ফ্রান্সের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের ভার অঞ্চলে দাবানলে প্রায় ২,৫০০ হেক্টর এলাকা পুড়ে গেছে। এতে কয়েক ডজন বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং অন্তত ৪০০ মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
যদিও তুলনামূলক কম তাপমাত্রা ও হালকা বাতাস আগুন নিয়ন্ত্রণে কিছুটা সহায়তা করছে, তবে দেশটির আবহাওয়া সংস্থা মেতেও-ফ্রান্স জানিয়েছে, সপ্তাহজুড়ে পশ্চিম ও দক্ষিণ-পশ্চিম ফ্রান্সে নতুন দাবানলের ঝুঁকি খুবই বেশি থাকবে।
এ ছাড়া ইতালির সিসিলি, গ্রিস ও সাইপ্রাসেও তীব্র গরম ও দাবানলের ঝুঁকিতে জরুরি সতর্কতা জারি করা হয়েছে। কোথাও কোথাও উন্মুক্ত স্থানে কাজ নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং মানুষকে অপ্রয়োজনে বাইরে না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে তাপপ্রবাহ, খরা ও দাবানলের তীব্রতা এবং ঘনত্ব বাড়ছে, যা ইউরোপজুড়ে চরম আবহাওয়ার ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে তুলছে।
সূত্র : আল জাজিরা
0 মন্তব্য