ইরানের বিরুদ্ধে ছয় মাস ধরে চলা যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় এখন পর্যন্ত প্রায় ৩৮ বিলিয়ন ডলার। এই ব্যয় প্রতি মাসে আরও প্রায় ৩ বিলিয়ন ডলার করে বাড়তে পারে বলে জানিয়েছে কংগ্রেশনাল বাজেট অফিস (সিবিও)।
মঙ্গলবার প্রকাশিত সিবিওর হিসাব অনুযায়ী, ২০২৭ সালের প্রথম তিন মাসে যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যস্ফীতি আরও ০ দশমিক ৫ শতাংশ বাড়তে পারে। এতে দেশটির অস্ত্রের মজুত ও সরকারি বাজেটের ওপরও বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, সিবিও জানিয়েছে, দ্রুত অস্ত্র ও গোলাবারুদ ব্যবহারের কারণে মজুত আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে পাঁচ বছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। যুদ্ধের সময় যুক্তরাষ্ট্র তার দূরপাল্লার নির্ভুল ক্ষেপণাস্ত্রের প্রায় সবই ব্যবহার করেছে।
তবে হোয়াইট হাউস ও পেন্টাগন অস্ত্রের ঘাটতির বিষয়টি প্রত্যাখ্যান করে জানিয়েছে, প্রয়োজনীয় সামরিক সক্ষমতা যুক্তরাষ্ট্রের রয়েছে।
এদিকে পেন্টাগনের ইন্সপেক্টর জেনারেলের হিসাব অনুযায়ী, ১৯ জুন পর্যন্ত ইরান যুদ্ধের ব্যয় ছিল ৩৩ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলার। পরে ব্যয় আরও বেড়ে ৩৮ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে বলে সিবিও জানিয়েছে।
যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালিতে জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায় তেলের দামও বেড়েছে। যুদ্ধের আগে বিশ্বের মোট তেলের প্রায় ২০ শতাংশ এই জলপথ দিয়ে পরিবহন করা হতো।
সিবিওর মতে, গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্রের ঘাটতি ভবিষ্যতে বড় কোনো সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের দ্রুত সাড়া দেওয়ার সক্ষমতাকে প্রভাবিত করতে পারে। গত জুলাইয়ে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ অস্ত্রের মজুত পূরণে প্রায় ৯০ বিলিয়ন ডলার জরুরি তহবিল চেয়েছিলেন।
এদিকে আগস্টে যুক্তরাষ্ট্রের মোট সরকারি ঋণ ৪০ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। তুলনায়, প্রায় দুই দশকের ইরাক ও আফগানিস্তান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় হয়েছিল যথাক্রমে প্রায় ২ ট্রিলিয়ন ও ২ দশমিক ৩ ট্রিলিয়ন ডলার।
0 মন্তব্য