রাজশাহী মহানগরীকে অবৈধ দখলমুক্ত করে নাগরিকদের স্বাচ্ছন্দ্যে ও নির্বিঘ্নে চলাচল নিশ্চিত করতে ফুটপাত দখলমুক্তকরণ অভিযান জোরদার করেছে রাজশাহী সিটি করপোরেশন (রাসিক)। ইতোমধ্যে নগরীর কয়েকটি এলাকায় ফুটপাত দখলমুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি উচ্ছেদে ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও হকারদের পর্যায়ক্রমে পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন রাসিক প্রশাসক মো. মাহফুজুর রহমান রিটন।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) রাজশাহী মহানগরীর সাহেব বাজার এলাকায় সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন মার্কেট সরেজমিনে পরিদর্শন শেষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
রাসিক প্রশাসক জানান, নগরবাসীর চলাচল নির্বিঘ্ন করতে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও এলাকার ফুটপাত দখলমুক্ত করার কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এরই অংশ হিসেবে ভদ্রা, মহিলা কলেজ রোড এবং মেডিকেলের সামনের একাংশের ফুটপাত দখলমুক্ত করা হয়েছে।
তিনি বলেন, খুব শিগগির লক্ষ্মীপুর, জিরোপয়েন্ট, সোনাদিঘি মোড়, রেলগেট ও গণকপাড়াসহ নগরীর অন্যান্য ব্যস্ত এলাকার ফুটপাতও দখলমুক্ত করা হবে। জনস্বার্থে এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।
পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়া হবে হকারদের
উচ্ছেদ অভিযানে ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও হকারদের জীবন-জীবিকার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে তাঁদের পুনর্বাসনের পরিকল্পনা করছে রাসিক। এ জন্য উপযুক্ত স্থান নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা চলছে বলে জানান প্রশাসক।
তিনি বলেন, নগরবাসীর চলাচলের সুবিধা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও হকারদের জীবিকার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে তাঁদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সাহেব বাজারের ৮৯টি পরিত্যক্ত দোকান ব্যবহারের উদ্যোগ
ফুটপাত দখলমুক্তকরণ কার্যক্রমের পাশাপাশি নগরীর বাজারগুলোর অবকাঠামো উন্নয়ন ও অব্যবহৃত জায়গা কাজে লাগানোর পরিকল্পনাও করছে রাসিক।
পরিদর্শনকালে প্রশাসক সাহেব বাজার কাঁচাবাজার, মাছপট্টি, মাংসপট্টি, কসাইখানা এবং মার্কেটের দ্বিতীয় তলায় অবস্থিত বিভিন্ন পরিত্যক্ত দোকান ঘুরে দেখেন।
বিশেষ করে সাহেব বাজার কাঁচাবাজার ও মাছপট্টির দ্বিতীয় তলায় দীর্ঘদিন অবহেলিত অবস্থায় পড়ে থাকা ৮৯টি দোকান পরিদর্শন করেন তিনি। এসব দোকান ও সংশ্লিষ্ট স্থানের বর্তমান অবস্থা পর্যালোচনা করে সেগুলো ব্যবহার উপযোগী করার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানান।
এ ছাড়া মার্কেটটি নতুনভাবে নির্মাণ অথবা আধুনিকায়ন করা যায় কি না, সে বিষয়েও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
রাসিক প্রশাসক আশা প্রকাশ করেন, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে ব্যবসায়ীদের জন্য স্বাস্থ্যকর ও উন্নত পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে সিটি করপোরেশনের অব্যবহৃত সম্পদের কার্যকর ব্যবহার বাড়বে এবং নিজস্ব আয় বৃদ্ধিতেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
তিনি বলেন, নগরীর ফুটপাত দখলমুক্ত করা, বাজার ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের পুনর্বাসনের মাধ্যমে রাজশাহীকে আরও পরিচ্ছন্ন, সুশৃঙ্খল ও নাগরিকবান্ধব নগরী হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।
0 মন্তব্য