রাজধানীর পল্লবীতে দ্বিতীয় শ্রেণির স্কুলছাত্রী শিশু রামিসা আক্তার (৭) হত্যাকাণ্ডে প্রধান অভিযুক্ত জাকির হোসেন ওরফে সোহেল রানাকে (৩০) নিয়ে ভয়ংকর তথ্য দিয়েছে তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার। তার বরাত দিয়ে পুলিশ জানিয়েছে, জাকির বিকৃত যৌনরুচিসম্পন্ন ব্যক্তি এবং তিনি স্ত্রীকেও বিভিন্ন সময় নির্যাতন করতেন।
মঙ্গলবার সকালে পল্লবীর একটি ফ্ল্যাটের খাটের নিচ থেকে রামিসার মস্তকবিহীন মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে বাথরুম থেকে উদ্ধার করা হয় শিশুটির বিচ্ছিন্ন মাথা। নিহত রামিসা স্থানীয় পপুলার স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় পল্লবী থানায় হত্যা মামলার প্রক্রিয়া চলছে।
ঘটনার পর ফ্ল্যাট থেকেই স্বপ্না আক্তারকে আটক করে পুলিশ। তবে জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যায় জাকির। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় পুলিশ জানতে পারে, নারায়ণগঞ্জের একটি দোকানে বন্ধুর পাঠানো টাকা তুলতে গেছে সে। পরে স্থানীয় পুলিশ ও দোকানদারের সহায়তায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, রিকশা মেকানিক জাকিরের বিরুদ্ধে নাটোরে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলা রয়েছে।
তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ধারণা, শিশুটি বিকৃত যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছিল। নির্যাতন বা রক্তক্ষরণের ঘটনা প্রকাশ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। পরে আলামত গোপন ও মরদেহ গুমের উদ্দেশ্যে শিশুটির মাথা ও হাত বিচ্ছিন্ন করা হয় বলে মনে করছে পুলিশ।
সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার এস এন নজরুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিকভাবে আমাদের ধারণা, শিশুটির সঙ্গে বিকৃত যৌন আচরণ বা ধর্ষণ করা হয়েছে। বিষয়টি টের পেয়ে যাওয়ার ভয়েই তাকে হত্যা করে মরদেহ গুমের পরিকল্পনা করা হয়।” তবে ধর্ষণের বিষয়টি ময়নাতদন্ত ও রাসায়নিক পরীক্ষার প্রতিবেদনের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানান তিনি।
তদন্তে জানা গেছে, রামিসার পরিবার দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে ওই ভবনে বসবাস করলেও অভিযুক্ত দম্পতি মাত্র দুই মাস আগে বিপরীত পাশের ফ্ল্যাটে ভাড়া ওঠেন। ঘটনার দিন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রামিসাকে স্কুলে পাঠানোর জন্য খুঁজতে গিয়ে তার মা অভিযুক্তদের ফ্ল্যাটের সামনে শিশুটির স্যান্ডেল দেখতে পান।
পুলিশের ভাষ্য, রামিসার মা দরজায় কড়া নাড়ার সময়ও ফ্ল্যাটের ভেতরে হত্যাকাণ্ড চলছিল। জাকিরকে পালানোর সুযোগ করে দিতেই দীর্ঘ সময় দরজা খোলেননি স্বপ্না। জাকির জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর তিনি দরজা খোলেন। পুলিশ মনে করছে, হত্যাকাণ্ডে সহযোগী হিসেবে ভূমিকা ছিল স্বপ্নারও।
0 মন্তব্য