বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে আজকে মহারণে মুখোমুখি হচ্ছে দুই ফুটবল পরাশক্তি আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড। আটলান্টায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া দ্বিতীয় সেমিফাইনালের বিজয়ী দল আগামী রোববার নিউ জার্সিতে স্পেনের বিপক্ষে শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচ খেলবে।
লিওনেল মেসির নেতৃত্বাধীন আর্জেন্টিনার লক্ষ্য টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জিতে ১৯৬২ সালের ব্রাজিলের পর প্রথম দল হিসেবে এই কীর্তি গড়া। ৩৯ বছর বয়সী মেসি এবারও দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছেন। গোল্ডেন বুটের দৌড়ে ৮ গোল নিয়ে যৌথভাবে শীর্ষে থাকা এই মহাতারকা কেপ ভার্দে ও মিশরের বিপক্ষে ৩-২ ব্যবধানের দুই জয়েই গোল করে দলকে সেমিফাইনালে তুলেছেন।
অন্যদিকে, থমাস টুখেলের ইংল্যান্ডও দীর্ঘ ৬০ বছর পর আবার বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠার স্বপ্ন দেখছে। ১৯৬৬ সালে একমাত্র শিরোপা জেতার পর আর ফাইনালে ওঠা হয়নি ইংলিশদের। এবার দলটির আক্রমণভাগে ভরসার নাম হ্যারি কেইন ও জুড বেলিংহ্যাম। দুজন মিলে ইংল্যান্ডের ১৩ গোলের মধ্যে ১২টিই করেছেন।
দুই দল সর্বশেষ প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল ২০০২ সালের বিশ্বকাপে। তবে তাদের বিশ্বকাপ ইতিহাসে সবচেয়ে আলোচিত লড়াই ১৯৮৬ সালের কোয়ার্টার ফাইনাল, যেখানে দিয়েগো ম্যারাডোনার 'হ্যান্ড অব গড' এবং শতাব্দীর সেরা গোলের সৌজন্যে ২-১ ব্যবধানে জিতেছিল আর্জেন্টিনা। ১৯৯৮ সালের বিশ্বকাপে আবার টাইব্রেকারে জয় পায় আলবিসেলেস্তেরা, সেই ম্যাচে লাল কার্ড দেখেছিলেন ডেভিড বেকহ্যাম।
আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড ম্যাচের সঙ্গে ফকল্যান্ড (মালভিনাস) দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে দুই দেশের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক বিরোধও আলোচনায় আসে। তবে আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনি বিষয়টিকে মাঠের ফুটবলের বাইরে রাখতে চান।
স্কালোনি বলেন, "এটি শুধুই একটি ফুটবল ম্যাচ। বহু বছর আগের ঘটনাকে এর সঙ্গে মেলাতে চাই না। আমাদের ইতিহাসের সেই সময়টি ছিল দুঃখজনক, কিন্তু এখন এটি শুধুই ফুটবল।"
অন্যদিকে, ইংল্যান্ড কোচ থমাস টুখেল জানিয়েছেন, ম্যাচের গুরুত্ব উপলব্ধি করলেও অতিরিক্ত চাপ অনুভব করছেন না।
তিনি বলেন, "চাপ মনে হচ্ছে না। উত্তেজনা ও স্নায়ুচাপ থাকবে, সেটাই স্বাভাবিক। তবে সবচেয়ে ভালো লাগছে, খেলোয়াড়রা দারুণ ক্ষুধার্ত এবং এই ম্যাচ খেলতে মুখিয়ে আছে।"
এদিকে, মঙ্গলবার প্রথম সেমিফাইনালে ফ্রান্সকে ২-০ গোলে হারিয়ে ২০১০ সালের পর প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করেছে স্পেন। মিকেল ওয়ারজাবালের পেনাল্টি ও পেদ্রো পোরোর গোলে জয় পায় লুইস দে লা ফুয়েন্তের দল।
স্পেন কোচ বলেন, "প্রায় চার বছর আগে যে ধারণা নিয়ে যাত্রা শুরু করেছিলাম, আমরা সেটির প্রতিই আস্থাশীল ছিলাম। এই খেলোয়াড়রা তাদের প্রতিশ্রুতি, ঐক্য, উদারতা ও প্রতিভা দিয়ে কঠিন কাজগুলো সহজ করে তুলেছে।"
0 মন্তব্য