খাগড়াছড়ির পানছড়ি উপজেলায় এক অসহায় পরিবারের জীবন যেন বর্ষার পানিতে থমকে গেছে। স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে চলাফেরার সক্ষমতা হারানো ৫০ বছর বয়সী খোকন দত্ত টানা এক সপ্তাহ ধরে নিজ ঘরেই পানিবন্দী অবস্থায় মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন। পানি নিষ্কাশনের স্থায়ী ব্যবস্থা না থাকায় চরম দুর্ভোগে দিন কাটছে এই পরিবারের।
অনুসন্ধানে জানা যায়, একসময় রং মিস্ত্রীর কাজ করে স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে কোনোমতে সংসার চালাতেন খোকন দত্ত। কিন্তু দুই বছর আগে হঠাৎ স্ট্রোকে আক্রান্ত হওয়ার পর তাঁর শরীরের অনেকাংশ অবশ হয়ে যায়। দীর্ঘ চিকিৎসায় কিছুটা সুস্থ হলেও স্বাভাবিকভাবে হাঁটার শক্তি আর ফিরে পাননি। বর্তমানে একটি লাঠির ওপর ভর করেই কোনোমতে চলাফেরা করতে হয় তাঁকে। উপার্জন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পরিবারটি এমনিতেই চরম অভাব-অনটনের মুখোমুখি।
প্রতিবছর বর্ষা এলেই খোকন দত্তের পরিবারের দুর্ভোগ কয়েক গুণ বেড়ে যায়। জরাজীর্ণ ঘরের চালে অসংখ্য ছিদ্র থাকায় সামান্য বৃষ্টি হলেই ঘরের ভেতরে পানি পড়ে ভিজে যায় বিছানাপত্র।
অন্যদিকে, বাড়ির চারপাশে পানি নিষ্কাশনের কোনো সুব্যবস্থা না থাকায় এবার টানা বৃষ্টিতে উঠোনজুড়ে কোমরসমান পানি জমে রয়েছে। ফলে টানা এক সপ্তাহ ধরে কার্যত ঘরবন্দী হয়ে আছেন খোকন দত্ত ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা। পক্ষাঘাতগ্রস্ত খোকন দত্তকে চিকিৎসকেরা প্রতিদিন কিছুটা হাঁটাচলা করার পরামর্শ দিয়েছিলেন। কিন্তু উঠোনজুড়ে জমে থাকা নোংরা পানির কারণে ঘর থেকে বের হওয়া সম্ভব হচ্ছে না, ফলে ব্যাহত হচ্ছে তাঁর শারীরিক চর্চাও।
স্থানীয় প্রতিবেশীদের ভাষ্য অভাব-অনটনের মধ্যে থাকা এই পরিবারটির ঘরে পানি ওঠার কারণে অনেক দিন ধরেই নিয়মিত চুলা জ্বলছে না। শুকনো খাবার বা চেয়ে-চিন্তে কোনোমতে দিন পার করছেন তারা।
ভুক্তভোগী খোকন দত্ত ও তাঁর প্রতিবেশীদের দাবি, এলাকায় দ্রুত পানি নিষ্কাশনের জন্য একটি স্থায়ী ড্রেনেজ ব্যবস্থা করা হোক। জরাজীর্ণ ঘর মেরামত ও জলাবদ্ধতা দূর করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছেন তারা।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, প্রশাসনের দ্রুত উদ্যোগে অন্তত এই অসহায় পরিবারটি যেন স্বাভাবিকভাবে বেঁচে থাকার ন্যূনতম সুযোগ ফিরে পায়।
0 মন্তব্য