বিয়ের জন্য পাত্রী দেখা হয়েছিল। পরিবারের মধ্যে চলছিল বিয়ের প্রস্তুতি নিয়ে প্রাথমিক আলোচনা। কিন্তু সেই আনন্দের মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন অপু দাশ (৩০) নামের এক যুবক। শুক্রবার রাতে কাপ্তাই সড়কে মোটরসাইকেল নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে দ্রুতগতির একটি প্রাইভেটকারের ধাক্কায় গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
নিহত অপু দাশ রাঙ্গুনিয়া উপজেলার স্বনির্ভর রাঙ্গুনিয়া ইউনিয়নের উত্তর সাবেক রাঙ্গুনিয়া গ্রামের রাস বিহারি ধামের পাশের বাঘার বাড়ির প্রয়াত বাদল দাশের ছেলে। দুই ভাই ও এক বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন সবার ছোট। তিনি রাউজানের পাহাড়তলী চৌমুহনী এলাকার দি বিসিসিইউএল জেনারেল হাসপাতালে মার্কেটিং অফিসার হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার বিকেলে রাউজানের বাগোয়ান এলাকার গঙ্গা মন্দিরে অপুর জন্য পাত্রী দেখানো হয়। এ সময় বিয়ের বিষয়ে দুই পরিবারের মধ্যে প্রাথমিক কথাবার্তাও হয়। এরপর তিনি কর্মস্থলে গিয়ে দায়িত্ব পালন করেন।
রাত ৮টার দিকে হাসপাতালের কাজ শেষে মোটরসাইকেল নিয়ে বাড়ির উদ্দেশে রওনা দেন অপু। পথে পাহাড়তলী ইউনিয়নের ইমাম গাজ্জালী ডিগ্রি কলেজসংলগ্ন কাতালপীর শাহ দরগাহের সামনে পৌঁছালে দ্রুতগতির একটি প্রাইভেটকার পেছন থেকে তার মোটরসাইকেলকে সজোরে ধাক্কা দেয় বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
ধাক্কায় অপু মোটরসাইকেল থেকে ছিটকে সড়কে পড়ে যান। এতে মাথায় গুরুতর আঘাত লাগে এবং প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়। খবর পেয়ে সহকর্মীরা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে চট্টগ্রামের এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত ১১টার দিকে তার মৃত্যু হয়।
নিহতের প্রতিবেশী শিবু চক্রবর্তী বলেন, “অপুর বিয়ের জন্য মেয়ে ঠিক করা হয়েছিল। শুক্রবার বিকেলে আনুষ্ঠানিকভাবে পাত্রীও দেখানো হয়। পরিবারে বিয়ের প্রস্তুতি ও আনন্দের জোয়ার বইছিল। কিন্তু কয়েক ঘণ্টা পার না হতেই এই সড়ক দুর্ঘটনা সব শেষ করে দিল। বিয়ের পিঁড়িতে বসা আর হলো না অপুর।”
দি বিসিসিইউএল জেনারেল হাসপাতালের পরিচালক (মার্কেটিং) এপেক্সিয়ান মৃনাল কান্তি বড়ুয়া বলেন, অপু অত্যন্ত বিশ্বস্ত ও পরিশ্রমী কর্মকর্তা ছিলেন। তার এমন আকস্মিক মৃত্যু পুরো হাসপাতাল পরিবারকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে।
অপুর আকস্মিক মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে পরিবার, স্বজন, সহকর্মী ও পুরো এলাকায়। বিয়ের আনন্দের মুহূর্তের পরপরই এমন মর্মান্তিক ঘটনায় স্বজনদের মধ্যে নেমে এসেছে গভীর শোক।
রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম জানান, নিহত অপুর মরদেহ চমেক হাসপাতালে রয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান করা হচ্ছে। কোনো অজ্ঞাত যানবাহনের ধাক্কায় দুর্ঘটনাটি ঘটেছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
0 মন্তব্য