নেপাল-তিব্বত সীমান্তে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে শত শত মানুষের প্রাণহানির পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে একটি ভিডিও। ভিডিওতে দেখা যায়, প্রবল পানির স্রোতে একটি পুরো জনপদ মুহূর্তের মধ্যে নিশ্চিহ্ন হয়ে যাচ্ছে। তবে ভিডিওটি আসল কি না, তা নিয়ে শুরু থেকেই প্রশ্ন ওঠে।
বিষয়টি আলাদাভাবে যাচাই করেছে বিবিসি ও এএফপি। তাদের যাচাইয়ে দেখা গেছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ওই ভিডিওটি বাস্তব নয়; এটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ১০ সেকেন্ডের ভিডিওটিতে দেখা যায়, প্রবল স্রোতের পানি নদীর পাড় ভেঙে পথচারী ও গাড়ির ওপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে। পরে একই ভিডিও ইনস্টাগ্রাম, থ্রেডস, ফেসবুক, টিকটক, ইউটিউব ও এক্সসহ বিভিন্ন মাধ্যমে একাধিক ভাষায় ছড়িয়ে পড়ে।
নেপাল-তিব্বত সীমান্তে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসের পর ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ায় অনেকে এটিকে ওই দুর্যোগের বাস্তব দৃশ্য বলে মনে করেন। অথচ যাচাইয়ে ভিডিওটির বেশ কিছু অসংগতি ধরা পড়ে।
এএফপি ভিডিওটি গুগলের এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা শনাক্তকারী প্রযুক্তি দিয়ে পরীক্ষা করে। এতে ইঙ্গিত পাওয়া যায়, ভিডিওটি গুগলের নিজস্ব কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি দিয়ে তৈরি করা হয়েছে।
ভিডিওটির বিভিন্ন দৃশ্যেও কৃত্রিমভাবে তৈরি হওয়ার প্রমাণ পাওয়া যায়। ভিডিওর শুরুতে রাস্তায় একজন মানুষকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। কিন্তু এক সেকেন্ডের মাথায় বন্যার পানি সেখানে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গে মানুষটি হঠাৎ অদৃশ্য হয়ে যায়।
এছাড়া পানির ঢেউয়ে কয়েকটি স্থাপনা ভেঙে পড়তে দেখা গেলেও সেগুলো পরে বিকৃত হয়ে বড় বড় পাথরের মতো দেখায়। আবার ভিডিওর প্রায় সাত সেকেন্ডের সময় ক্যামেরা পেছনের দিকে সরে গেলে হঠাৎ একটি ভবন ও একটি গাছ দৃশ্যমান হয়। বিবিসির ফ্যাক্টচেকেও একই ধরনের অসংগতি পাওয়া গেছে।
এদিকে নেপাল-তিব্বত সীমান্তের প্রকৃত বন্যার দৃশ্যও প্রকাশ করেছে এএফপি। তিব্বত স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলের গিরং বন্দরে আকস্মিক বন্যার আঘাতের পর পানি ও ধ্বংসাবশেষ নেপালের দিকে বয়ে যাওয়ার দৃশ্য সিসিটিভি ফুটেজে ধরা পড়ে।
মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, একটি হিমবাহ ধসে পড়ার পর বরফ ও ধ্বংসাবশেষের বিশাল স্রোত তৈরি হয়ে এ দুর্যোগের সূত্রপাত হয়। প্রথমে ওই স্রোত একটি সীমান্ত চৌকিতে আঘাত হানে। পরে তা নেপালের দিকে প্রবাহিত হয়।
এই দুর্যোগে এখন পর্যন্ত ৪৭২ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং প্রায় ১ হাজার ৪০০ জন নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজদের মধ্যে হিমালয়ের পর্বতারোহী এবং তিব্বতের পবিত্র পর্বত কৈলাসে যাওয়া অনেক হিন্দু তীর্থযাত্রীও রয়েছেন।
এএফপি এর আগে বন্যা নিয়ে ছড়িয়ে পড়া আরও কিছু ভুল তথ্য যাচাই করেছে। ফলে ভয়াবহ দুর্যোগের সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও বা ছবি যাচাই না করে সত্য বলে ধরে না নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন তথ্য যাচাইকারীরা।
0 মন্তব্য