এবারের ইলিশের মৌসুম শুরুতেই সংকট দেখা দিয়েছে। গত পূর্ণিমা তিথিতেও উপকূলের বরগুনার বেতাগী বিষখালী নদীতে জেলেদের জালে কম ইলিশ ধরা পড়েছে। ইলিশ সরবরাহ কম হওয়ায় এবং গত কয়েকদিন যাবৎ দাম বেশি থাকায় নিম্ন আয়ের মানুষসহ সাধারণেরা যথারীতি কিনতে পারছে না।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মধ্য আগস্ট থেকে নভেম্বর মাস পর্যন্ত বাংলা শ্রাবণের শেষ সপ্তাহ থেকে কার্তিক মাস পর্যন্ত ইলিশের ভরা মৌসুম। এ মৌসুমে পূর্ণিমা তিথিগুলোতে গভীর সমুদ্র থেকে ডিম পাড়ার জন্য ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ নদীতে চলে আসে। এসময় জেলেদের জালে ঝাঁকে ঝাঁকে ধরা পড়ে রুপালি ইলিশ। বর্তমান মৌসুমের এ পূর্ণিমা তিথিতে জেলেদের জালে কম ইলিশ ধরা পড়েছে। ভোক্তাদের চাহিদা বেশি থাকায় দাম বেড়েছে।
গত কয়েকদিনের ব্যবধানে প্রতি মণ গ্রেডের (বড় সাইজের) ইলিশের দাম ১০ হাজার টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। বেতাগী মৎস্য কর্মকর্তা মো. মারুফ হোসেন মিনার এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, ‘সরবরাহ অপেক্ষা চাহিদা বেশি হওয়ায় এখন ইলিশের দাম বেড়ে গেছে।’
গত কয়েকদিন যাবৎ পৌর শহরের বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ৫০০ থেকে ৬০০ গ্রাম ওজনের প্রতি কেজি ইলিশের দাম ১০০০ থেকে ১৩০০ টাকা। এক কেজি ওজনের ইলিশ ২০০০ থেকে ২৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া দু কেজি বা তার থেকে একটু বেশি ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৫০০০ থেকে ৭০০০ টাকায়। কারণ হিসেবে জানা গেছে, গত বছরের এসময়ের মতো ইলিশ ধরা পড়ছে না জেলেদের জালে। যার কারণে সরবরাহ অপেক্ষা চাহিদা বেড়ে গেছে।
পৌর শহরের ইলিশ ব্যবসায়ী কমল দাস ও শাহিন হাওলাদার বলেন, গত কয়েকদিন মোকামে সাগরের ইলিশের আমদানি কমে গেছে। এ ছাড়া আমাদের বিষখালী নদীতেও কম মাছ ধরা পড়েছে। তাই দাম অনেক বেড়ে গেছে।
উপজেলা মৎস্য সমিতির সভাপতি আব্দুর রব সিকদার বলেন, চাহিদার তুলনায় কম মাছ ধরা পড়ায় দাম বেড়েছে। তবে আবার বেশি মাছ ধরা পড়লে দামও কমবে।
বরগুনা জেলার বৃহৎ মৎস্য কেন্দ্র পাথরঘাটা থেকে আসা কয়েকজন আড়তদারের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সাগরে আগের মতো ইলিশ জালে ধরা পড়ছে না। যার কারণে ইলিশের চাহিদা বৃদ্ধি পেয়েছে। দামও কয়েকগুণ বেড়ে গেছে। তবে খুব শিগ্গিরই অনেক ইলিশ ধরা পড়বে। তখন আবার দাম কমে যাবে। বেতাগী পৌর শহরের ইলিশ মোকামের কয়েকজন আড়তদার জানালেন ইলিশ কম ধরা পড়ায় দাম বেড়েছে।
0 মন্তব্য