কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহারে এগিয়ে আছে চীন। দেশটির প্রতিষ্ঠানগুলোতে ‘অভাবনীয়’ হারে বাড়ছে এআই ব্যবহারের চাহিদা। ফলাফল, এআইসেবা কেনাবেচার একক ‘টোকেন’ এখন একপ্রকার ডিজিটাল করপোরেট মুদ্রায় পরিণত হয়েছে। স্থানীয়ভাবে একে অনেকে নাম দিয়েছে ‘সিইউয়ান’।
এআইসেবার রয়েছে দুটি অংশ, ইনপুট প্রম্পট এবং আউটপুট। ইনপুট ও আউটপুট ডেটার পরিমাণ মাপা হয় টোকেনের মাধ্যমে।
অনেকটা বিদ্যুতের কিলোওয়াট-আওয়ার ইউনিটের মতো। চীনের শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান, যেমন বাইটড্যান্স, আলিবাবা এবং টেনসেন্ট এখন কর্মীদের এআইভিত্তিক কাজে উৎসাহিত করতে প্রতিদিন লাখ লাখ টোকেন বরাদ্দ দিচ্ছে। কর্মীরা একে বলছেন ডিজিটাল ভাতা। ন্যাশনাল ডেটা অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (এনডিএ) তথ্যানুযায়ী, চীনে বার্ষিক এআই টোকেন ব্যবহার ১৪০ ট্রিলিয়ন ছাড়িয়ে গেছে।
বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান আইডিসির মতে, ২০২৬ সালে চীনের মডেল-অ্যাজ-এ-সার্ভিস (MaaS) খাতে টোকেন ব্যবহার ৪০,০০০ ট্রিলিয়নে পৌঁছবে। চীনের শীর্ষ নীতিনির্ধারক ও গবেষকরা একে ‘টোকেন ইকোনমি’ বা টোকেন অর্থনীতি হিসেবে ব্যাখ্যা করছেন।
চীনা একাডেমি অব সায়েন্সেসের একাডেমিশিয়ান ইন হাভের মতে, ডেটা ও কম্পিউটিং অর্থনীতির পর চীন এখন টোকেন অর্থনীতির যুগে প্রবেশ করেছে। এর মাধ্যমে এআই কম্পিউটিং সক্ষমতা সরাসরি দেশের অর্থনীতির সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। টোকেন লেনদেনের এই প্রসার করপোরেট নজরদারিতেও যোগ করেছে নতুন মাত্রা। কিছু প্রতিষ্ঠান টোকেন খরচকে কর্মীদের কর্মদক্ষতা মূল্যায়নের মাপকাঠি বানিয়েছে।
এর ফলে কুনলুন টেকের মতো প্রতিষ্ঠানে টোকেন ব্যবহারের ওপর ভিত্তি করে কর্মীর দক্ষতা ও প্রোডাক্টিভিটি মূল্যায়নের চল শুরু হয়েছে। অনেক কর্মী এতে চটেছেন। তাঁদের দাবি, সব ধরনের কাজে এআই প্রয়োজন নেই। তাই টোকেন ব্যবহার দিয়ে কর্মী যাচাই করা উচিত নয়। আবার এআইয়ের ভুল তথ্য বা ‘হ্যালুসিনেশন’-এর কারণে আউটপুট পর্যালোচনায়ও কর্মীদের বাড়তি সময় ব্যয় করতে হচ্ছে। ফলে এআই ব্যবহারের ফলে তৈরি হচ্ছে অপ্রয়োজনীয় কাজের চাপ। অপচয় ও ভুয়া উৎপাদনশীলতা রোধে টেনসেন্ট এরই মধ্যে তাদের টোকেন বরাদ্দ অর্ধেক কমিয়ে এনেছে।
বিগ টেকের বাইরেও টোকেন ইকোনমির প্রভাব দ্রুত ছড়াচ্ছে। চায়না টেলিকম এখন ডেটা প্যাকের মতো সাধারণ গ্রাহক ও ব্যবসায়ীদের জন্য মাসিক টোকেন প্যাকেজ বিক্রি করছে। এ ছাড়া ভেনচার ক্যাপিটাল ফার্ম ‘ঝেনফান্ড’ স্টার্টআপগুলোকে নগদ অর্থের বদলে টোকেন গ্রান্ট দিচ্ছে। এমনকি পিকিং ইউনিভার্সিটির মতো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বৃত্তির পরিবর্তে শিক্ষার্থীদের টোকেন দেওয়ার প্রস্তাবও উঠছে। অর্থাৎ এআই টোকেন এখন কম্পিউটিং ইনফ্রাস্ট্রাকচারের সূচক থেকে অর্থনৈতিক সম্পদে পরিণত হয়েছে।
0 মন্তব্য