অতিরিক্ত ও অনিয়ন্ত্রিত রাসয়নিক কীটনাশক ব্যবহার করে অনেক কৃষক যখন শাকসবজি চাষ করছেন। ঠিক তখন জেলার ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় কোনো ধরনের কীটনাশক ব্যবহার না করে দেশীয় পদ্ধতিতে হাইব্রিড জাতের লাউ চাষ করে সাফল্য পেয়েছেন কৃষক আবু হানিফ ভূইয়া।
বাড়ি সংলগ্ন ২৫ শতাংশ জমিতে চাষ করা লাউ ইতিমধ্যে বিক্রি শুরু করেছেন তিনি। ফলন ও বাজারদর ভালো থাকায় ওই জমি থেকে নিজেদের চাহিদা মিটিয়ে ৬০ হাজার টাকার বেশি লাউ বিক্রির আশা করছেন আবু হানিফ।
আবু হানিফ ভূইয়া আখাউড়া উপজেলার মনিয়ন্দ ইউনিয়নের রাজমঙ্গলপুর গ্রামের বাসিন্দা। তার সাফল্য দেখতে স্থানীয়দের পাশাপাশি আশপাশের বিভিন্ন এলাকার মানুষও তার জমিতে আসছেন। অনেকে তার কাছ থেকে লাউ চাষের পদ্ধতি ও পরিচর্যা সম্পর্কে পরামর্শ নিচ্ছেন।
কৃষক হানিফ ভূইয়া জানান, মৌসুম অনুযায়ী বছরের বেশির ভাগ সময় তিনি বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষ করেন। প্রায় দুই মাস আগে বাড়ি সংলগ্ন ২৫ শতাংশ জমিতে দেশীয় পদ্ধতিতে উচ্চ ফলনশীল হাইব্রিড জাতের লাউ চাষ শুরু করেন। জমি তৈরি, বীজ কেনা, চারা রোপণ, বেড়া দেওয়া ও আগাছা পরিষ্কারসহ এ পর্যন্ত তার প্রায় ১৫ হাজার টাকা খরচ হয়েছে।
তিনি বলেন, নিয়মিত পরিচর্যার কারণে চারা রোপণের প্রায় ৪৫ দিনের মাথায় গাছে ফুল আসতে শুরু করে। এরপর ১০ থেকে ১২ দিনের মধ্যে লাউ খাওয়ার উপযোগী হয়ে ওঠে। ফলনও হয়েছে বেশ ভালো। গত এক সপ্তাহ ধরে তিনি লাউ বিক্রি করছেন। প্রতিটি লাউ ৫০ থেকে ৫৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। স্থানীয় ক্রেতাদের পাশাপাশি সবজি ব্যবসায়ীরাও সরাসরি ক্ষেত থেকে লাউ কিনে নিয়ে যাচ্ছেন।
হানিফ ভূইয়া বলেন, এ পর্যন্ত চার হাজার টাকার বেশি লাউ বিক্রি করেছেন। গাছে যে পরিমাণ ফলন এসেছে, তাতে প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে নিজেদের চাহিদা মিটিয়ে ৬০ হাজার টাকার বেশি লাউ বিক্রি করা সম্ভব হবে বলে আশা করছেন তিনি।
দেখা যায়, জমিতে তৈরি মাচাজুড়ে ছড়িয়ে রয়েছে লাউগাছ। গাছের ডগায় ডগায় ফুটেছে সাদা ফুল। মাচার নিচে ঝুলছে অসংখ্য সবুজ লাউ। ভালো ফলন ধরে রাখতে সকাল-বিকেল জমির পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষক হানিফ।
স্থানীয়রা বলেন, স্বল্প পরিসরে পরিকল্পিতভাবে সবজি চাষ করেও যে ভালো আয় করা সম্ভব, হানিফের উদ্যোগ তার একটি উদাহরণ। তার চাষাবাদ পদ্ধতি দেখে অন্য কৃষকেরাও লাউ চাষে আগ্রহী হতে পারেন।
আখাউড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. মাসুদ রানা বলেন, লাউ চাষে শ্রম তুলনামূলক কম লাগে এবং ফলনও ভালো পাওয়া যায়। এ উপজেলার কৃষকরা সবজির পাশাপাশি বাণিজ্যিকভাবে লাউ চাষ করে লাভবান হচ্ছেন।
তিনি বলেন, চেষ্টা ও সঠিক পরিচর্যা থাকলে কৃষিতে সফলতা পাওয়া সম্ভব। কৃষক হানিফ ভূইয়ার সাফল্য এর একটি উদাহরণ। উপজেলা কৃষি অফিস নিয়মিত স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী পরামর্শ ও সহযোগিতা প্রদান করছেন।
0 মন্তব্য