মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত গাজা যুদ্ধবিরতি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বহুজাতিক আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বাহিনীকে গাজায় প্রবেশের অনুমতি দিতে সম্মত হয়েছে ইসরায়েল। রোববার এক ইসরায়েলি কর্মকর্তা এ তথ্য জানিয়েছেন। এর একদিন পরই প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ওয়াশিংটন সফরে যাচ্ছেন।
কর্মকর্তা জানান, রোববার নেতানিয়াহুর নিরাপত্তা মন্ত্রিসভা গাজায় ওই বাহিনীর প্রবেশের আইনি কাঠামো অনুমোদন করেছে।
সোমবার ওয়াশিংটনের উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে নেতানিয়াহুর। মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে তার বৈঠক হওয়ার কথা।
‘ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স’ নামে এই মিশনে উগান্ডা ও মরক্কোর মতো ‘বন্ধুপ্রতিম দেশ’ থেকে প্রায় ২০০ সদস্য অংশ নেবেন বলে জানিয়েছেন ওই কর্মকর্তা। তারা গাজার যেসব এলাকায় ইসরায়েলি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণ নেই, সেখানে মোতায়েন হবেন।
তবে প্রতিটি দেশের বাহিনীকে গাজায় প্রবেশের জন্য পৃথকভাবে ইসরায়েলের অনুমোদন নিতে হবে। কবে থেকে এই বাহিনী মোতায়েন শুরু হবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের নেতৃত্বাধীন হামলার পর শুরু হওয়া পূর্ণমাত্রার যুদ্ধে গত দুই বছরে গাজার বিস্তীর্ণ এলাকা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।
গত অক্টোবরে যুদ্ধবিরতি চুক্তি হওয়ার পর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প গাজার জন্য একটি শান্তি পরিকল্পনা উপস্থাপন করেন। এতে মানবিক সহায়তা বৃদ্ধি, ফিলিস্তিনি প্রযুক্তিবিদদের মাধ্যমে বেসামরিক প্রশাসন পরিচালনা, হামাসের নিরস্ত্রীকরণ এবং ইসরায়েলি বাহিনীর প্রত্যাহারের প্রস্তাব ছিল।
তবে পরিকল্পনাটি এখনো বাস্তবায়নের পথে অগ্রসর হয়নি। ‘ন্যাশনাল কমিটি ফর দ্য অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অব গাজা’ নামে পরিচিত ফিলিস্তিনি বেসামরিক প্রশাসনিক কমিটিও এখনো গাজায় দায়িত্ব নিতে পারেনি।
বর্তমানে ইসরায়েল গাজার প্রায় ৬৪ শতাংশ এলাকা নিয়ন্ত্রণ করছে। অন্যদিকে প্রায় ২০ লাখ বাসিন্দার অধিকাংশই হামাস-নিয়ন্ত্রিত উপকূলীয় সংকীর্ণ এলাকায় অস্থায়ী তাঁবু বা ক্ষতিগ্রস্ত ভবনে মানবেতর পরিস্থিতিতে বসবাস করছে।
এদিকে হামাস এখনো নিরস্ত্রীকরণে রাজি হয়নি। ইসরায়েল জানিয়েছে, তারা গাজায় নিজেদের নিয়ন্ত্রণ আরও বাড়িয়ে ভূখণ্ডের প্রায় ৭০ শতাংশ পর্যন্ত বিস্তৃত করবে। একই সঙ্গে অঞ্চলটিতে প্রায় প্রতিদিনই সামরিক অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েল।
ট্রাম্পের শান্তি পরিকল্পনায় ‘বোর্ড অব পিস’ নামে একটি আন্তর্জাতিক কর্তৃপক্ষ গঠনের কথাও রয়েছে, যা পুরো শান্তি প্রক্রিয়া বাস্তবায়নের তদারকি করবে এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বাহিনীর কার্যক্রমও সমন্বয় করবে।
এ মাসের শুরুতে বোর্ডের এক কর্মকর্তা জানান, পরিকল্পনাটি এগিয়ে নিতে গাজাবাসীর জন্য একটি পরীক্ষামূলক মানবিক অঞ্চল (পাইলট হিউম্যানিটারিয়ান জোন) গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
গাজার জন্য ট্রাম্পের ‘বোর্ড অব পিস’-এর বিশেষ দূত নিকোলাই ম্লাদেনভ ইসরায়েলের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে তিনি লিখেছেন, “গাজাকে স্থিতিশীল করা, নিরস্ত্রীকরণে সহায়তা করা এবং এনসিএজি (NCAG)-এর অধীনে কার্যকর ফিলিস্তিনি অন্তর্বর্তী প্রশাসনে উত্তরণের জন্য এটি সম্মত কাঠামোর একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।”
0 মন্তব্য