কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের একমাত্র ছেলে ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমকে (১৩) হারিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন মা। সন্তান হারানোর শোকে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘এ দেশটা ধ্বংস হয়ে যাক। এ দেশের দরকার নাই।’
অপ্রতিমের বাড়িতে এখন চলছে মাতম। ঘরের দেয়ালে দেয়ালে ছড়িয়ে আছে তার হাসিমুখের স্মৃতি। একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে মা বারবার কান্নায় ভেঙে পড়ছেন। নির্বাক হয়ে আছেন বাবা। স্বজনদের চোখেও অশ্রু।
শুক্রবার বিকেলে হাসিমুখে বাড়ি থেকে বের হয়েছিল অপ্রতিম। সন্ধ্যা পেরিয়ে রাত হলেও সে আর বাড়ি ফেরেনি। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাননি।
পরে শনিবার সকালে লালমাই পাহাড়ের পাদদেশের একটি জঙ্গল থেকে অপ্রতিমের নিথর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তবে তার সঙ্গে থাকা মায়ের দেওয়া আইফোনটি পাওয়া যায়নি। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, আইফোনটি ছিনিয়ে নিতেই তাকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে।
সন্তান নিখোঁজ হওয়ার পর তাকে ফিরে পাওয়ার আকুতি জানিয়ে ফেসবুকে পোস্ট করেছিলেন মা নাহিদা বেগম। কিন্তু শেষ পর্যন্ত জীবিত সন্তানকে আর ফিরে পাননি তিনি।
এদিকে রোববার সকালে দ্বিতীয় দফা জানাজা শেষে কুমিল্লার কোটবাড়ী বাগমারা কবরস্থানে অপ্রতিমের দাফন সম্পন্ন হয়েছে। এর আগে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে তার প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।
অপ্রতিম হত্যার ঘটনায় তার বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার বাদী হয়ে কুমিল্লার সদর দক্ষিণ মডেল থানায় মামলা করেন। পরে সিসিটিভি ফুটেজ ও অন্যান্য তথ্যের ভিত্তিতে সন্দেহভাজন কয়েকজনকে আটক করে পুলিশ।
অপ্রতিমের মৃত্যুতে পরিবার, স্বজন, সহপাঠী ও কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে গভীর শোকের সৃষ্টি হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও দ্রুত বিচার দাবি করেছেন স্বজন ও শিক্ষার্থীরা।
0 মন্তব্য