দুই দফা জানাজার নামাজ শেষে কুমিল্লার কোটবাড়ির বাগমারা গোরস্থানে চিরনিদ্রায় শায়িত হয়েছে কিশোর ইশিয়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বাগমারা কবরস্থানে তার দাফন সম্পন্ন হয়।
এর আগে সকাল ১০টার দিকে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন মাঠে মসজিদের সামনে অপ্রতিমের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে বাগমারা কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে তার দ্বিতীয় জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়।
জানাজা শেষে অপ্রতিমের বাবা ব্যবসায়ী কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার কান্নাজড়িত কণ্ঠে ছেলের হত্যার বিচার দাবি করেন।
তিনি বলেন, “আমার আর নতুন করে কিছু বলার নেই। আমি কেবল আমার সন্তান হত্যার উপযুক্ত বিচার দেখতে চাই। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর এখনো আমার পূর্ণ আস্থা আছে। তবে সামান্য একটি আইফোনের জন্য আমার ছেলেকে এভাবে হত্যা করা হয়েছে—এ কথা আমার মন কোনোভাবেই বিশ্বাস করতে পারছে না। আমার মাত্র ১৩ বছর বয়সী নিষ্পাপ ছেলেটা কোনো অপরাধ করেনি। তবে কেন তাকে এভাবে প্রাণ দিতে হলো? এই মুহূর্তে আমি শুধু ঘাতকদের কঠোর বিচার চাই।”
আবেগাপ্লুত হয়ে তিনি আরও বলেন, “আমার ছেলে যাদের সঙ্গে গিয়েছিল, তাদের সে নিজের বন্ধু ভেবে বিশ্বাস করেছিল। তাদের কাঁধে স্নেহের হাত রেখে আমার ছেলে হাসিমুখে হাঁটতে হাঁটতে ওই পাহাড়ের দিকে গিয়েছিল। সে মনে করেছিল, ওগুলো বন্ধুর ভালোবাসার হাত। কিন্তু সেই বিশ্বাসের হাতগুলোই শেষ পর্যন্ত আমার মাসুম বাচ্চাটাকে হত্যা করল।”
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের একমাত্র সন্তান অপ্রতিম। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন লালমাই সানন্দা পাহাড়ি এলাকার একটি জঙ্গল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, অপ্রতিমের ব্যবহৃত আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। এ ঘটনায় তিন তরুণকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ।
এর আগে শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তোলার কথা বলে কোটবাড়ির বাসা থেকে বের হয় অপ্রতিম। এরপর আর বাড়িতে ফেরেনি সে। সন্ধান না পেয়ে তার বাবা কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
অপ্রতিম স্থানীয় বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
0 মন্তব্য