অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ উইমেন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (বিডব্লিউসিসিআই) প্রশিক্ষণের আওতায় ১৪ জন প্রতিবন্ধী এবং ২৬৩ জন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীসহ মোট ৪৬ হাজার ২৪৮ জন নারীকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে প্রশিক্ষণ শেষে ১৩ হাজার ৮৯৫ নারীর কর্মসংস্থান বা আত্মকর্মসংস্থানের তথ্য রেকর্ড করা হয়েছে।
গত ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত ১ হাজার ৯২৭টি ব্যাচে এ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়, যা প্রতি ব্যাচে ২৪ জন নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার শতভাগ অর্জন। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের নিয়ন্ত্রণাধীন কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর বাস্তবায়িত অ্যাসেট প্রকল্পের আওতায় এই এন্টারপ্রাইজ-বেইজড ট্রেনিং কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। দক্ষতা যাচাইয়ে অংশগ্রহণ করেছেন প্রতিবন্ধী নারী ১৩ জন এবং ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর নারী ১৬১ জন। দক্ষ হিসেবে মূল্যায়িত হয়েছেন প্রতিবন্ধী নারী ৮ জন এবং ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর নারী ৯৪ জন।
এ পর্যন্ত কর্মসংস্থান বা আত্মকর্মসংস্থানের তথ্য পাওয়া প্রশিক্ষণার্থীদের মধ্যে ৮ জন প্রতিবন্ধী নারী এবং ৭৩ জন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর নারী রয়েছেন।
প্রশিক্ষণার্থীদের সবাই নারী। পারিবারিক ও সামাজিক বাস্তবতার কারণে অনেক নারী প্রচলিত চাকরির বাজারে সহজে প্রবেশ করতে পারেন না; দক্ষতা প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাঁদের জন্য প্রাতিষ্ঠানিক চাকরির পাশাপাশি বাড়িভিত্তিক কাজ, ক্ষুদ্র ব্যবসা, উৎপাদন, সেবামূলক উদ্যোগ এবং আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হচ্ছে।
বাজারমুখী দক্ষতার ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রশিক্ষণে রয়েছে টেইলারিং অ্যান্ড ড্রেস মেকিং, ফ্যাশন ডিজাইন, প্রোডাক্ট ডেভেলপমেন্ট ও মডেলিং, ফুড অ্যান্ড বেভারেজ প্রোডাকশন, এমব্রয়ডারি, হ্যান্ড স্টিচিং, ব্লক-বাটিক ও স্ক্রিন প্রিন্টিং, বিউটিফিকেশন, কেয়ারগিভিং, আইসিটি ও ফ্রিল্যান্সিং এবং এন্টারপ্রেনারশিপ ডেভেলপমেন্ট।
অ্যাসেট প্রকল্পের বর্ধিত মেয়াদের জন্য জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের দক্ষতার মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রস্তুত ‘ফিউচার অব ওয়ার্ক’ তালিকায় নারীর জন্য সম্ভাবনাময় বেশ কয়েকটি অকুপেশন অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে প্রাইমারি হেলথ কেয়ার সার্ভিসেস, আইসিটি ও ফ্রিল্যান্সিং, ব্লক-বাটিক অ্যান্ড স্ক্রিন প্রিন্টিং, হ্যান্ড স্টিচিং অ্যান্ড এমব্রয়ডারি, টেইলারিং অ্যান্ড ড্রেস মেকিং, শিশুদের কেয়ারগিভিং, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের কেয়ারগিভিং, বয়স্ক ব্যক্তিদের কেয়ারগিভিং, ফ্যাশন ডিজাইন, প্রোডাক্ট ডেভেলপমেন্ট ও মডেলিং, মাইক্রোফাইন্যান্স অপারেশন্স, ফুড অ্যান্ড বেভারেজ প্রোডাকশন এবং এন্টারপ্রেনারশিপ ডেভেলপমেন্ট।
দক্ষতার মানদণ্ড-সমন্বিত তালিকায় টেইলারিং অ্যান্ড ড্রেস মেকিং লেভেল-৩ ও লেভেল-৪ এবং এন্টারপ্রেনারশিপ ডেভেলপমেন্ট লেভেল-৪ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। বিশেষ করে কেয়ারগিভিং এবং উদ্যোক্তা উন্নয়ন ভবিষ্যতে নারীর জন্য দেশীয় ও আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে নতুন সুযোগ তৈরি করতে পারে।
এ পর্যন্ত দক্ষতা যাচাইয়ে অংশ নিয়েছেন ৩৮ হাজার ৪৮ জন প্রশিক্ষণার্থী এবং দক্ষ হয়েছেন ২৬ হাজার ৫৭৪ জন, যা অংশগ্রহণকারীদের প্রায় ৬৯ দশমিক ৯ শতাংশ। কর্মসংস্থান বা আত্মকর্মসংস্থানে যুক্ত হওয়ার তথ্য রেকর্ড হয়েছে ১৩ হাজার ৮৯৫ জনের, যা দক্ষ হিসেবে মূল্যায়িতদের প্রায় ৫২ দশমিক ৩ শতাংশ।
পরবর্তী পর্যায়ে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে প্রশিক্ষণ সম্পন্নকারী যোগ্য নারীদের দ্রুত দক্ষতা যাচাইয়ে অন্তর্ভুক্ত করা, দক্ষতা অর্জনের হার বাড়ানো, কর্মসংস্থান ও আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণ এবং ভবিষ্যৎ শ্রমবাজারের উপযোগী উচ্চতর দক্ষতা ও উদ্যোক্তা সক্ষমতা বৃদ্ধি করা।
বিডব্লিউসিসিআইয়ের প্রেসিডেন্ট সঙ্গীতা আহমেদ বলেন, ‘একজন নারী যখন অর্জিত দক্ষতা কাজে লাগিয়ে আয় করতে শুরু করেন, তখন এর সুফল শুধু তাঁর নিজের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না; পরিবার ও স্থানীয় অর্থনীতিতেও তার ইতিবাচক প্রভাব পড়ে।’
অ্যাসেট-বিডব্লিউসিসিআই প্রকল্পের ডেপুটি সাব-প্রজেক্ট ম্যানেজার সুমন্ত কুমার মহন্ত বলেন, ‘অ্যাসেট প্রকল্পের এন্টারপ্রাইজ-বেইজড ট্রেনিং কার্যক্রমের মাধ্যমে ৪৬ হাজারের বেশি নারীকে দক্ষতা প্রশিক্ষণের আওতায় আনা একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন। তবে আমাদের লক্ষ্য শুধু প্রশিক্ষণ দেওয়া নয়। আমরা চাই, নারীরা অর্জিত দক্ষতা কাজে লাগিয়ে চাকরি পান, আত্মকর্মসংস্থানে যুক্ত হন কিংবা নিজের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। এর মাধ্যমে তাঁরা বিভিন্ন পর্যায়ে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখতে পারবেন।’
0 মন্তব্য