সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার সলঙ্গা থানাধীন ঘুরকা ইউনিয়ন এলাকায় মহাসড়ক সংলগ্ন বিভিন্ন হোটেল ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে জ্বালানি তেল কেনাবেচা, সরকারি ও বেসরকারি মালামাল খালাস এবং পণ্য পাচারের একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, বগুড়া-সিরাজগঞ্জ মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে প্রকাশ্যেই এসব কার্যক্রম চললেও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কার্যকর নজরদারি চোখে পড়ছে না।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মহাসড়কের পাশে কয়েকটি হোটেলকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে কথিত তেল ব্যবসার গোপন নেটওয়ার্ক। অভিযোগ রয়েছে, দূরপাল্লার ট্রাক ও পণ্যবাহী যানবাহন থেকে অতিরিক্ত ডিজেল ও অন্যান্য জ্বালানি তেল নামিয়ে নির্দিষ্ট ঘরে মজুত করা হয়। পরে তা বাজারমূল্যের চেয়ে কম দামে বিভিন্ন পরিবহন ও ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করা হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ট্রাকচালক জানান, গাড়ির প্রয়োজনীয় জ্বালানি রেখে অতিরিক্ত তেল বিক্রি করা অনেক চালকের কাছে নিয়মিত আয়ের উৎসে পরিণত হয়েছে। অপরদিকে কয়েকজন তেল ক্রেতা দাবি করেন, সংশ্লিষ্ট মহলের সঙ্গে সমঝোতা করেই এ ব্যবসা পরিচালিত হয়।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, শুধু জ্বালানি তেল নয়, বিভিন্ন সময়ে সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যবহৃত পাথর, রডসহ নানা নির্মাণসামগ্রীও গাড়ি থেকে নামিয়ে বিক্রি করা হয়। পাশাপাশি ভুসি, খোল, গম, ভুট্টাসহ কৃষিপণ্যও মহাসড়কের পাশেই অবৈধভাবে বেচাকেনা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, সিরাজগঞ্জ রোড থেকে বগুড়াগামী মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে অন্তত ২০ থেকে ২৫টি অবৈধ তেল ক্রয়-বিক্রয় কেন্দ্র সক্রিয় রয়েছে। এসব কেন্দ্রকে ঘিরে একটি সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা পরিচালনা করছে। ফলে সরকার বিপুল রাজস্ব হারানোর পাশাপাশি বৈধ ব্যবসায়ীরাও ক্ষতির মুখে পড়ছেন।
সচেতন মহল বলছে, মহাসড়কে চলাচলকারী পণ্যবাহী যানবাহন থেকে এভাবে তেল ও মালামাল খালাসের ঘটনা সত্য হলে তা শুধু চুরি নয়, বরং একটি বড় ধরনের অর্থনৈতিক অপরাধ। বিষয়টি তদন্ত করে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করা জরুরি।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও জেলা প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তারা অবৈধ তেল ব্যবসা, পণ্য খালাস ও চোরাই মালামাল বেচাকেনার বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনার দাবি জানিয়েছেন।
0 মন্তব্য